নিজস্ব প্রতিনিধি, আহমেদাবাদ: এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের দেহ পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া শুরু করল প্রশাসন। ডিএনএ মিলে যাওয়ায় শনিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দুর্ঘটনায় নিহত একজনের দেহ তাঁর পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিভিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার ৪৮ ঘন্টা বাদে নিহতদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো। যদিও ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার গতি শ্লথ হওয়ায় মৃতদের পরিজনরা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। দ্রুত যাতে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায় তার জন্য প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে সর্দার আহমেদাবাদের বল্লভভাই পটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে উড়ান দেয় এয়ার ইন্ডিয়ার ১৭১ বিমানটি। আহমেদাবাদ থেকে ব্রিটেনের গ্যাটউইক যাওয়ার কথা ছিল। রানওয়ে ২৩ থেকে ওড়ার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেঙে পড়ার আগে বিমানটি মাটি থেকে ৬২৫ ফুট উচ্চতায় ছিল। উপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত গতিতে নীচের দিকে নেমে আসতে শুরু করে। তার পরই সেটি মেঘানিনগরের কাছে বসতি এলাকায় চিকিৎসকদের একটি আবাসনের উপরে ভেঙে পড়ে। বিমানটিতে ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিকের পাশাপাশি সাতজন পর্তুগিজ ও একজন কানাডার নাগরিক ছিলেন। বিমানটি ভেঙে পড়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকার্য শুরু করে দেয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সেনা জওয়ানরা।
ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৭৫ জনের মৃত্যুর খবর জানা গিয়েছে। বিমানটি ভেঙে পড়ার সময় তীব্র বিস্ফোরণে কার্যত পুড়ে ঝামা হয়ে গিয়েছিল যাত্রীদের দেহ। তাই শনাক্তকরণে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চোখের জল সামলে প্রিয়জনের দেহ বা দেহাবশেষটুকু পেতে বিজে মেডিক্যাল কলেজের সামনে ডিএনএ নমুনা দেওয়ার লম্বা লাইন। যদিও ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে মৃতদের পরিজনদের। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের আত্মীয়র থেকে নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে গান্ধিনগরের গবেষণাগারে। সেখান থেকে রিপোর্ট এসে পৌঁছবে বিজে হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে। তার পর তা পৌঁছবে সিভিল হাসপাতালের কাসৌটি ভবনে। সেখান থেকে একে একে ফোন করে জানানো হবে মৃতের আত্মীয়দের।
ডিএনএ পরীক্ষা করে মৃতদের দেহ পরিজনদের হাতে হস্তান্তরের পাশাপাশি ধ্বংসস্তুপের নিচে আরও কোনও দেহ রয়েছে কিনা তা ভালভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও দেহ উদ্ধার হতে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা।