নিজস্ব প্রতিনিধি, আহমেদাবাদ: ১২ জুন গোটা বিশ্বের জন্য হয়ে রইল এক কালো দিন। এই দিনেই গুজরাতের আহমেদাবাদে বি জে মেডিক্যাল কলেজের একটি হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়েছিল ১১ বছরের পুরনো একটি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বোয়িং বিমান। বিমানটিতে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি মজুত ছিল। ভেঙে পড়ার পরেই বোয়িংয়ে আগুন ধরে যায়। ১ জন বাদে বিমান এ থাকা সকল যাত্রী, দুই পাইলট, ও ক্রু সদস্যরা মারা যান এই দুর্ঘটনায়। উড়ানের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ডাক্তারি পড়ুয়াদের হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে বিমানটি। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক পুরুষ যাত্রী। তারপরেই এয়ার ইন্ডিয়ার দিকে আঙুল তুলেছেন তাঁর মেয়ে ফাল্গুনী।
নিহতের পরিবার পিছু ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন এয়ার ইন্ডিয়া। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফাল্গুনি। তাঁর কথায়, “ওরা ১ কোটি টাকা দেবে বলছে, আমি ওদের ২ কোটি টাকা দেব, ওরা আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে কি? টাকা দিয়ে কি মানুষ কেনা যায়?” অসহায় মেয়ে ক্ষোভমিশ্রিত কণ্ঠে প্রশ্ন, “আমার বাবার কী দোষ ছিল? আমি তাঁর মেয়ে, দয়া করে আমার বাবাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন। এয়ার ইন্ডিয়া আমাদের সঙ্গে রসিকতা করেছে, কোনও উত্তর নেই ওদের কাছে। কোনও সহানুভূতি নেই।”
ক্ষোভ, অসহায়ত্ব মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে ফাল্গুনীর কন্ঠে। বারবার তাঁর কণ্ঠ থেকে ঝড়ে পড়েছে রাগ। তাঁর কথায়, “আমরা ওই ১ কোটি টাকা দিয়ে হয়তো একটা খাট কিনলাম, কিন্তু আমরা কি তাতে ঘুমাতে পারব? আমার বাবা আমাকে যেভাবে ভালবাসতেন তা আমি কীভাবে পাব? আমার বাবা একজন দেশপ্রেমী ছিলেন। তিনি নিজেকে এয়ার ইন্ডিয়ার গর্বিত যাত্রী বলে মনে করতেন। কিন্তু আমার বাবা দেশপ্রেমের জন্য কী পুরস্কার পেলেন? এইভাবে কি দেশ চলে? নিরাপদে যদি নাই যাত্রীদের নিয়ে যেতে দিতে পারেন তাহলে এয়ার ইন্ডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হোক। এটা তো কোনও রসিকতা নয়। কারও জীবনের চেয়ে তো বড় কিছু হতে পারে না।”
ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট ২৪২ জন আরোহীর মধ্যে ২৪১ জনেরই প্রাণহানি হয়। ১ জন বেঁচে গিয়েছেন কার্যত অলৌকিকভাবে। তিনি আহতও হয়েছেন খুব সামান্য।