নিজস্ব প্রতিনিধি, আহমেদাবাদ: গুজরাতের আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা শুধু দেশকে নয়, সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। টেক অফের কয়েক সেকেন্ডের মাথায় বোয়িং বিমান ড্রিমলাইনার ভেঙে পড়ে হয় ভয়াবহ বিপর্যয়। যে স্থানে বিমানটি ভেঙে পড়ে সেটি একটি পড়ুয়াদের হোস্টেল। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু বিমান আরোহীরা নন, প্রাণ গিয়েছে আশপাশের আরও বহু মানুষের। সর্বমোট ২৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে গিয়েছেন একজন। তাঁর নাম রমেশ বিশ্বাস কুমার। এই মুহূর্তে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রমেশের সঙ্গে দেখা করেন।
রমেশ সংবাদ মাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন তাঁর বেঁচে যাওয়ার কাহিনী। বলেছেন, রানওয়েতে বিমানের গতি বৃদ্ধি পেতেই তিনি অদ্ভুত কিছু অনুভব করেছিলেন। মনটা কু গেয়ে উঠেছিল। হঠাৎ ৫-১০ সেকেন্ডের জন্য সবকিছু থেমে গিয়েছিল। অদ্ভুত নীরবতা। তারপর আকস্মিকভাবে সবুজ ও সাদা আলো জ্বলে উঠল। মনে হচ্ছিল পাইলট বিমানটিকে আকাশে ভাসিয়ে রাখার প্রবল চেষ্টা করছেন। আচমকা বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে ডাক্তারি পড়ুয়াদের হোস্টেলের উপর।
বিশ্বাস জানিয়েছেন, “আমি বিমানের যে অংশে বসেছিলাম সেই দিকটি নিশ্চয় হোস্টেল ভবনের নীচের অংশে আঘাত করেছিল। উপরের অংশে আগুন লেগেছিল, অনেক মানুষ সেখানে আটকা পড়েছিলেন। হয়তো আমি সিট সহ নীচে পড়ে গিয়েছিলাম। আমি কোনওরকমে বিমান থেকে বেরিয়ে আসি। দরজা ভাঙা ছিল, সামনে সামনে কিছু ফাঁকা জায়গা দেখতে পেয়েছিলাম। ওপারে একটা দেওয়াল ছিল। সেখান দিয়ে সম্ভবত কেউ আর বেরিয়ে আসতে পারেননি।” রমেশ দেখেছেন দু’জন এয়ার হোস্টেসকে চোখের সামনে পুড়ে যেতে। দুর্ঘটনায় একমাত্র জীবিত রমেশ বিশ্বাস কুমারের ডান হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছে।
লন্ডনের নাগরিক রমেশ। লেস্টারে বাস করে তাঁর পুরো পরিবার। এদিন ফ্লাইটে যাওয়ার সময় রমেশের সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই অজয়। রমেশ ভাগ্যবশত বেঁচে গেলেও অজয় বোধহয় পারেননি। তাঁর সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য আসেনি পরিবারের কাছে। তবে তাঁরা আশাবাদী রমেশের সম্পর্কে যেমন ভাল খবর এসেছে তাঁদের কাছে, অজয় সম্পর্কেও তেমনই ভাল খবর পাবেন।