আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ইতিমধ্যে ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।পাশাপাশি বাড়ছে আহতের সংখ্যাও। আহতের সংখ্যা প্রায় ৫০০ ছুঁইছুঁই। রবিবার মধ্যরাতে আচমকাই কেঁপে ওঠে আফগানিস্তান। কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৩। এরপর কয়েকবার আফটার শকে কেঁপে উঠেছে মাটি। তারমধ্যে ২টি কম্পনের মাত্রা ছিল ৫।পাশাপাশি পাকিস্তান ও ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও দিল্লির বেশ কয়েকটি জায়গা কেঁপে উঠেছে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে খবর, কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল আফগানিস্তানের জালালাবাদ থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মাটি থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার গভীরে। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ভূমিকম্প হলে বিপজ্জনক হয়। তার কারণ কম্পনের প্রভাব দ্রুত পৌঁছে যায় এবং ঘরবাড়ি ভাঙনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। রবিবার রাতে প্রথমে ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫০। ধ্বংসাবশেষের নীচে আরও কারও চাপা পড়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আফগানিস্তান তথ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, কুনার প্রদেশের নূর গাল, সাওকি, ওয়াতপুর, মানোগি এবং চাপা দারা জেলায় একাধিক হতাহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে ২৫০-র বেশি মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ বহু এলাকা ধ্বংসাবশেষ এখনো সরানো যায়নি। ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু জায়গায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা এই ভূমিকম্পকে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সব থেকে ভয়াবহ ভূমিকম্প বলে জানাচ্ছেন।
ভূমিকম্পের জেরে সাওকি জেলার দেওয়াহ গুল ও নূর গুল জেলার মাজার দারার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এরফলে উদ্ধারকাজে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটেছে। প্রথম কম্পনের প্রায় ২০ মিনিট পরে দ্বিতীয় কম্পন হয় একই এলাকায়। দ্বিতীয় কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫। এরপরে আরও একটি ৫.২ মাত্রার কম্পন হয়। শেষ দুটি কম্পনেরই উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।