নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। আর ওই নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের দলকে জেতাতে আসরে নামল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আসন্ন নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে খয়রাতি সাহায্য হিসাবে চার মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৭ কোটি টাকা) দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আজ মঙ্গলবার (১৯ অগস্ট) প্রধান নির্বাচন কমিশনা এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে গোপন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
ইতিমধ্যেই তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। যদিও ফেব্রুয়ারিতে কোনও নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না বলে হুঙ্কার ছেড়েছেন পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ নব্য রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। পাল্টা হুঙ্কার ছেড়েছে তদারকি সরকারও। ফেব্রুয়ারিতে ভোট রোখার ক্ষমতা কারও নেই বলে এনসিপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তদারকি সরকারের উপদেষ্টারা।
দুই শিবির যেভাবে রণংদেহী মেজাজে রয়েছেন তাতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্টই সংশয় দেখা দিয়েছে। কানাঘুষো চলছে, যে কোনও মুহুর্তেই বর্তমান তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ইস্তফা দিতে পারেন। ইস্তফা দেওয়ার পরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নতুন এক অন্তর্বর্তী সরকার গড়তে পারেন। সেই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।। ফলে ফেব্রুয়ারিতে ভোটের দিনক্ষণ পিছিয়ে দিতে পারে।
শেখ হাসিনা জমানায় একাধিকবার বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনীয়ন। যদিও বঙ্গবন্ধু কন্যা ইইউ’র ওই অযাচিত হস্তক্ষেপ রুখে দিয়েছিলেন। তবে গত বছরের ৫ অগস্টের পরে পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। ইইউ’র বান্ধব হিসাবে পরিচিত মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস তদারকি সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের দরজা খুলে গিয়েছে। চার মিলিয়ন বা চল্লিশ লক্ষ ইউরো খয়রাতি সাহায্য দিয়ে পরোক্ষে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে চাইছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।