নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কথায় বলে, ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি’। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পোষভৃত্য মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের দশাও অনেকটা তেমন। নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে ‘একঘরে’ করতে গিয়ে নিজেই চাপে পড়ে গেলেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। সোমবার (২ জুন) ফরেন সার্ভিস আকাদেমিতে ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মোল্লা ইউনূস। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিএনপি-সহ ২৭ দলের প্রতিনিধিরাই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করানোর দাবি জানিয়েছেন। শুধু ইউনূসের পোষ্য পাকিস্তানপন্থী জামায়াত ইসলামী-জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ইসলামী শাসনতন্ত্রের প্রতিনিধিরা বলেছেন, ‘হুজুরের (পড়ুন মোল্লা ইউনূসের) যখন মনে হবে তখনই নির্বাচন হবে।’
শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পর গত বছরের ৮ অগস্ট মোল্লা ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল তদারকি সরকার। প্রায় ১০ মাস কেটে গেলেও নির্বাচনের বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য শোনা যাচ্ছে না পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার মদতপুষ্ঠ সরকারের শীর্ষ কর্তাদের। বরং সংস্কারের গল্প ফেঁদে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এবং সেন্ট মার্টিন-সহ দেশের একাধিক ভূখণ্ড বিদেশিদের কাছে বিক্রির পাঁয়তারা করছে। যদিও ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। এমনকি দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও গত মাসে সেনাকুঞ্জে সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা সঁপে দেওয়ার পক্ষে সরব হয়েছেন। আর তাতেই দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র মাঠে মারা যেতে পারে আশঙ্কা করে ইস্তফার নাটক করা শুরু করে দিয়েছিলেন ইউনূস। বিএনপির বিরুদ্ধে রাজাকার ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শিবিরের দল হিসাবে পরিচিত জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও লেলিয়ে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি গরমের ছুটি কাটাতে জাপানে গিয়েও বিএনপির ভাবমূর্তি কলুষিত করার চেষ্টাও চালিয়েছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, ‘একমাত্র একটি দলই ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়।’
কিন্তু ইউনূসের ওই মিথ্যাচারের পর্দাফাঁস হয়েছে এদিন। শুধু বিএনপি-ই নয়, দেশের ২৭টি রাজনৈতিক দল একযোগে দাবি জানিয়েছে, ‘সংস্কারের অছিলায় অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা চলবে না। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে।’ তবে প্রভু ইউনূসকে ওই চাপ থেকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শিবিরের দল হিসাবে পরিচিত জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি বৈঠকে দুই দলই দাবি জানিয়েছে, ‘আগে শেখ হাসিনা-সহ পাকিস্তান ভাঙায় জড়িত মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করতে হবে। তার পরে ভোট।’ বৈঠকের শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের বৈঠকে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের তরফে ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে।। আমরা মনে করি ডিসেম্বরের ভেতরে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা খুবই সম্ভব এবং এর আগেই জরুরি ভিত্তিতে যেসব সংস্কার করা প্রয়োজন, বিশেষ করে নির্বাচনমুখী সেই সংস্কারগুলোকে চিহ্নিত করে আমরা ঐকমত্যের মাধ্যমে সেগুলো বাস্তবায়ন করব। এমন কোনও সংস্কার নেই, যা এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।’ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরও জানিয়েছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজকের বৈঠকে তিনটি রাজনৈতিক দল বাদ বাকি সব দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে।’ ওই তিনটি রাজনৈতিক দলের নাম জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা আমি বলব না। দেশের মানুষ জেনে গিয়েছে, কারা নির্বাচন না চেয়ে তদারকি সরকারকে ব্লাকমেল করে নিজেদের আখের গোচ্ছাচ্ছে।’