নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আকাশে ফের কালো মেঘ। গত ৫ অগস্ট তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছিলেন ‘আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির গোড়ার দিকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’ পরের দিন নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ইউনূসের ওই পরিকল্পনায় বাদ সাধল পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ নব্য রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ মঙ্গলবার (১২ অগস্ট) সরাসরি মোল্লা ইউনূসকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না।’ তাঁর ওই হুঙ্কারের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি কোনও অবৈধ শক্তির হাতে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা? এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কের হুঙ্কার নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মিথ্যা বাচস্পতি খেতাব পাওয়া মোল্লা ইউনূসের ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’ শফিকুল আলম।
গত বছর ৫ অগস্ট সেনা অভ্যুত্থানের জেরে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে দিল্লিতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার তিন দিন বাদে ৮ অগস্ট তদারকি সরকার গঠিত হয়েছিল। ওই তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর অন্যতম দোসর তথা রাজাকার বাহিনীর শীর্ষ পৃষ্ঠপোষক মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। প্রথম দিকে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা নিয়ে টালবাহানা করলেও গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরে মত বদলান তিনি। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে রমজান শুরুর আগেই দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচিত কোনও সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান।
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা করেন। বিএনপি এবং দেশের সিংহভাগ রাজনৈতিক দল ওই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। জামায়াত ইসলামী স্বাগত না জানালেও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে। তবে সদ্য গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি বরাবরই বলে এসেছে, সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের আগে নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না।
এদিন ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে জাতীয় যুব সম্মেলনে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আমি বলছি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, আমার যে ভাইয়েরা শহিদ হয়েছিল, রক্ত দিয়েছিল সংস্কারের জন্য, তাহলে কবরে গিয়ে তার লাশটা ফেরত দিতে হবে এই সরকারকে। আমার যে ভাইয়ের হাতটা চলে গিয়েছিল, যদি সংস্কার কাজ শেষ না করে নির্বাচন হয়, তাহলে এই সরকারকে আমার ভাইয়ের হাতটা ফিরিয়ে দিতে হবে৷ যে মায়ের বুক খালি হয়েছিল, ওই মায়ের বুকের সন্তানকে ফেরত দিতে হবে।’