নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসাবে শাসন ক্ষমতায় বিএনপিকে চাইছেন বাংলাদেশের ৩৯ শতাংশ তরুণ। গদি থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে উচ্ছেদকারী পাকিস্তানি চরদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) থার্ড বয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। ওই দলটি পেতে পারে ১৫.৪৮ শতাংশ ভোট। তবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যে মৌলবাদের প্রতি আকর্ষিত হয়ে পড়েছে তার প্রমাণ মিলেছে। কট্টর সাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াত ইসলামীকে সমর্থন জানিয়েছে ২১.৪৫ শতাংশ তরুণ। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, গত ১১ মাস ধরে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের লাগাতার চেষ্টা সত্বেও ১৫ শতাংশের বেশি মানুষ এখনও আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চান।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে সাধারন নির্বাচন হওয়ার কথা। ওই নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে দেশজুড়ে বিশেষ জনমত সমীক্ষা চালিয়েছিল সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)।
প্রথমে ৮ বিভাগ থেকে ২টি করে জেলা বাছাই করা হয়। এরপর সেখান থেকে আবার দুইটি করে উপজেলা নির্বাচন করা হয়। ১২৮টি জেলায় ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার তরুণের মতামত সংগ্রহ করা হয়। জনমত সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৪০ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকের (এসএসসি) নিচে।। বাকি ৬০ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা এর ওপরে। জনমত সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পুরুষদের মধ্যে ৪০ শতাংশ বিএনপিকে, ২২.২১ শতাংশ জামায়াতে ইসলামিকে এবং ১৪.৪৪ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মেয়েদের মধ্যে ৩৭.০৩ শতাংশ বিএনপি, ২০.৫৭ শতাংশ জামায়াত এবং ১৭.৪৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার মানুষের চেয়ে শহুরেদের বিএনপির প্রতি বেশি আস্থা রয়েছে। গ্রামের ৩৭.৭২ শতাংশ এবং শহর অঞ্চলের ৩৯.৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা খালেদার দলের প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন।
গত বছরের ৫ অগস্ট পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ও মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র যৌথ ষড়যন্ত্রে দেশ ছাড়া হতে হয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে। দলটির সিংহভাগ নেতা গ্রেফতার ও খুনের ভয়ে দেশ ছাড়া। বাকি নেতারা গ্রেফতার হয়ে জেলের ঘানি টানছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইউনূস সরকার। তবুও সাধারণ মানুষের মন থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারেনি। ভোটে লড়লে ১৫.২ শতাংশ ভোটার শেখ হাসিনার দলকে সমর্থন জানাবেন বলে জানিয়েছেন। গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে দলটির প্রতি সহানুবূতি শহুরে ভোটারদের চেয়ে বেশি। আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন গ্রামীণ অঞ্চলের ১৬.৬২ শতাংশ এবং শহর অঞ্চলের ১৩.৪৬ শতাংশ ভোটার।