নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘোষণা নিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামানের সঙ্গে সঙ্ঘাতের পথই বেছে নিলেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে শুক্রবার (৬ জুন) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময়ে তিনি জানান, ‘আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপযুক্ত সময়ে আপনাদের কাছে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করবে।’ প্রধান উপদেষ্টার এমন ঘোষণা নিয়ে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘ডিসেম্বরে ভোট না করার কথা ঘোষণা করে কার্যত সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামানকেই চ্যালেঞ্জ জানালেন ইউনূস। সেই সঙ্গে তিনি যে জামায়াত ইসলামীর পোষ্যভৃত্য হিসাবে দাযিত্ব পালন করছেন, তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন। কেননা, স্বাধিনতা বিরোধী গণহত্যাকারী ও গণধর্ষকদের দল জামায়াত ইসলামীর তরফে এপ্রিলে ভোট চাওয়া হয়েছিল।
গত মাসেই সেনাকুঞ্জে সেনা আধিকারিকদের এক সভায় দেশে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান। তাঁর ওই মন্তব্য নিয়ে শোরগোল বেঁধে যায়। বিএনপি-সহ দেশের ২৭টি রাজনৈতিক দলের তরফেও ডিসেম্বরে নির্বাচন করানোর দাবিতে সুর চড়ানো হয়। যদিও জামায়াত ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ পাকিস্তানপন্থী দলগুলির তরফে ডিসেম্বরে ভোট না করানোর দাবি তোলে। মূলত আড়া্আড়িভাবে বিভাজিত হয়ে পড়ে দেশ।
প্রথম থেকেই জুনে নির্বাচনের কথা বলে আসছিলেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। তবে এদিন সেখান থেকে খানিকটা পিছিয়ে এসে এপ্রিলের প্রথমার্ধে ভোট করানোর কথা ঘোষণা করেছেন। জাতির উদ্দেশে জ্ঞান বিতরণ করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন ‘আমরা এমন নির্বাচন করব যাতে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মা তৃপ্তি পাবে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। আমরা চাই আগামী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটার, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ও দল অংশ নিক। এটা সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে জাতির কাছে স্মরণীয় থাকুক। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে যতবার গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে, তার সবগুলোরই প্রধান কারণ ছিল ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মধ্যদিয়ে একটি রাজনৈতিক দল বর্বর ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছিল। এই ধরনের নির্বাচন যারা আয়োজন করে তারা জাতির কাছে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়। এমন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে দল ক্ষমতায় আসে তারাও জনগণের কাছে ঘৃণিত হয়ে থাকে।’