নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জঙ্গিবাদের আখড়া হয়ে ওঠা বাংলাদেশে রেহাই মিলছে না বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও। মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিশ্বকবির কাছারিবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালাল মৌলবাদীরা। এক দর্শনার্থীর সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মীদের বাকবিতণ্ডার জেরে ওই হামলা চলেছে বলে পুলিশের দাবি। ভাঙচুরের খবর পেয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুশফিকুর রহমান। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান ‘কবিগুরুর কাছারিবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেই বাংলাদেশে নখদাঁত বের করে তাণ্ডবনৃত্য শুরু করেছে জঙ্গি ও মৌলবাদীরা। আর ওই তাণ্ডবকে পিছন থেকে মদত দিচ্ছে মোল্লা ইউনূসের তদারকি সরকার। গত ১০ মাসে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ভাস্কর্য ও বাড়ি ভেঙে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেহাই পাননি লালন সাঁই থেকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের নামাঙ্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগারে হামলা চালানো হয়েছে। গত এপ্রিল মাসেই কুষ্টিয়ায় বিশ্বকবির মূর্তিতে কালি লেপে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁর নামের বানানও বিকৃত করা হয়েছিল। এবার হামলা চলল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে। প্রায় ১৮৫ বছর আগে ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারি কিনে নেন কবিগুরুর পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। জমিদারির সঙ্গে তাদের মালিকানায় আসে কাছারি বাড়িটিও। শাহজাদপুর জমিদারি দেখাশোনার কাজে মাঝেমধ্যে এই বাড়িতে আসতেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯৬৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মাণ করা দোতলা ভবনটি এখন পরিচিত রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর নামে।
শাহজাদপুর থানার ওসি আসলাম আলী জানিয়েছেন, ‘গত রবিবার (৮ জুন) বিকেলে শাহনেওয়াজ নামে এক দর্শনার্থী তার স্ত্রী ও ভাইপোকে সঙ্গে নিয়ে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে ঘুরতে যান। সেই সময় দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য নিয়ে টিকেট দিলেও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের জন্য টাকা নিয়েও কোন টোকেন দেয়নি কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শাহনেওয়াজের সঙ্গে কাছারিবাড়ির নিরাপত্তা কর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনার বদলা নিতে এদিন দুপুরের দিকে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে মৌলবাদী ও বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের সদস্যরা। শাহজাদপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। কাছারিবাড়ির কাস্টোডিয়ানের অফিস, লাইব্রেরি ও অডিটোরিয়ামের জানালা ও দরজা ভাঙচুর করে। এ সময় অডিটোরিয়াম, বিদ্যুৎ ও বাগান পরিচারক সিরাজুল ইসলামকে মারধর করা হয়। ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’