নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শ্লোগান মুছে দিতে কোমর কষে ঝাঁপিয়েছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশ স্বাধীনের লড়াইয়ে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে। কিন্তু সেই শব্দবন্ধই আজ নিষিদ্ধ বাংলাদেশে। এবার ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দেওয়ার অপরাধে এক চিকিৎসককে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করল মোল্লা ইউনূসের সরকার। আর ওই খবর জানাজানি হতেই নিন্দার ঝর উঠেছে। অনেক নেটা নাগরিক ক্ষোভ উগরে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশকে বাঙ্গিস্তান ঘোষণাই বাকি রয়ে গেল। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দেওয়ার কারণে একজন চিকিৎসককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে অন্তর্বর্তী সরকার ফের একবার নিজেদের পাকিস্তানপ্রেমী ও রাজাকার হিসাবেই প্রমাণ করল।’
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পর থেকেই বাংলাদেশের মাটি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা মুছে দেওয়ার কাজে কোমর কষে ঝাঁপিয়েছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। ইতিমধ্যেই ৭ মার্চ, ১৫ অগস্ট সহ আটটি জাতীয় দিবসকে বাতিল করা হয়েছে। ২০টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা-সহ শেখ পরিবারের সদস্যদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে পুলিশ-প্রশাসন-সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের লোকজনকে। আর এবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে একাত্তরের রণাঙ্গন কাঁপানো ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান। আর নিষিদ্ধ শ্লোগান উচ্চারণের অভিযোগে চাকরি হালালেন এক চিকিৎসক।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ অক্টোবর। ওই দিন বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ শেষে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দেন বাগেরহাটের সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন। জয় বাংলা’ উচ্চারণ ঘিরে শুরু হয় ঘোলা জলে মাছ ধরা। সিভিল সার্জনের পদ থেকে জালাল উদ্দিন আহমেদের অপসারণের দাবিতে ওই দিন রাতেই বিক্ষোভ দেখায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ২৭ অক্টোবর সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের পদত্যাগের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়। এর পরেই গতকাল রবিবার (৩ নভেম্বর) বাগেরহাটের সিভিল সার্জনের পদ থেকে জালালউদ্দিনকে সরিয়ে দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে তাঁকে ওএসডি করা হয়। ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই সরকারি চাকরি থেকে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর (পড়ুন বরখাস্ত) দেওয়া হয়।