নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশ বিক্রি ও জঙ্গিবাদীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে তিন উপদেষ্টাকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানাল বিএনপি। ওই তিন উপদেষ্টা হলেন মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং খলিলুর রহমান। এর মধ্যে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট। আর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট হিসাবেই পরিচিত। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করার মতো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গত কয়েকদিন ধরেই ‘মানবিক করিডর’, ‘জাতীয় নির্বাচন’-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে তদারকি সরকারের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে গিয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহল। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বিএনপি সরাসরি সেনাপ্রধানের পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ইসলামী-জাতীয় নাগরিক পার্টি-খেলাফত মজলিশ-ইসলামী আন্দোলন-আমার বাংলাদেশ পার্টির মতো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দলগুলি পাকিস্তানের পোষ্যভৃত্য মোল্লা ইউনূসের পাশে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই কীভাবে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে টাইট দেওয়া যায়, তা নিয়ে উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মোল্লা ইউনূস। দুই ঘন্টা ধরে রুদ্ধদ্বার কক্ষে চলে ওই বৈঠক। পরে সাংবাদিক বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, ‘ইস্তফা দিচ্ছেন না মুহাম্মদ ইউনূস। উপদেষ্টারাও ‘গলাধাক্কা’ না খাওয়া পর্যন্ত পশ্চাৎদেশে শক্ত আঁটা লাগিয়ে চেয়ার আঁকড়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ ফলে গত ৪৮ ঘন্টা ধরে ইউনূসের ইস্তফা নিয়ে যে টানটান নাটক চলছিল তার যবনিকাপাত ঘটে। পরে প্রধান উপদেষ্টার দফতরের তরফে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ওই বিবৃতিতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসাবে আখ্যা দেওয়া হয়।
সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে কাছে পেতে উঠেপড়ে লেগেছেন পাকিস্তানের পোষভৃত্য মোল্লা ইউনূস। কীভাবে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে শায়েস্তা করা যায় তার পরামর্শ নিতে এদিন সন্ধ্যায় নিজের কার্যালয়ে বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দলের চার শীর্ষ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘যমুনা’য় যান। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার বেশি বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে পরামর্শ দিয়েছি। অন্তত বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদে থাকা তিন জনকে অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। সে্ই সঙ্গে দ্রুত নির্বাচন ঘোষণার কথা ফের বলেছি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, নির্বাচন যত দেরি হবে, ততই পরাজিত ফ্যাসিবাদ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এর দায়-দায়িত্ব বর্তমান সরকার এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ওপরে বর্তাবে।’