নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও চার জাতীয় নেতার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠতেই ডিগবাজি খেল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। বুধবার (৪ জুন) মধ্যরাতে তড়িঘড়ি জারি করা অধ্যাদেশে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বঙ্গবন্ধু-সহ মুজিবনগর সরকারের চার শীর্ষ নেতার স্বীকৃতি বাতিল করেছিল। আর তদারকি সরকারের ওই সিদ্ধান্ত জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়। দেশ ও বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা গর্জে ওঠেন। অনেকেই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, ‘দেশটাকে কি পাকিস্তানের কাছে বন্ধক রাখার ষড়যন্ত্র চলছে? পাকিস্তানি দালাল ইউনূস ও তার স্যাঙাতদের বিরুদ্ধে ফের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার সময় এসেছে।’ ওই নিন্দার ঝড়ের পরেই ডিগবাজি খায় ইউনূস সরকার।
ড্যামেজ কন্ট্রোলে তড়িঘড়ি মাঠে নামেন তদারকি সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সহ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। আর মুজিবনগর সরকার গঠনে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁরা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’। বঙ্গবন্ধু ছাড়া দেশ যে স্বাধীন হতো না, তা আলোর মতো স্পষ্ট।’ তাহলে কেন আচমকা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ জারি করতে হল সেই প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই–বাছাই করতে গিয়ে দেখা যায়, মুজিবনগর সরকারের কিছু কর্মচারী ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হচ্ছেন। এখন থেকে তাঁরা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রকের উপদেষ্টা বলেন, ‘এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে কাউকে বাতিল করা হয়নি। শুধু সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। শুধু যাঁরা সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, তাঁরা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হবেন। অন্যরা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’।