নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজরোষে আর জঙ্গিবাদীদের হামলার ভয়ে দেশের সাধারণ মানুষ যে কথা বলতে পারেন না, সেই ধ্রুব সত্যিটা বলেই ফেললেন শেখ হাসিনাকে দেশছাড়া করা জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) শীর্ষ নেতা জোবাইরুল আলম মানিক। প্রকাশ্য সভায় সগর্বে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের চেয়ে বড় মাফিয়া এই মুহুর্তে বাংলাদেশে নেই।’ ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে মানিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। অনেক নেটা নাগরিকই রসিকতা করে বলেন, ‘সত্য কখনও চাপা থাকে না।’
গত বছরের ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে দেশ ছেড়ে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পর থেকে গত ১০ মাস ধরে বাংলাদেশ জুড়ে কার্যত তাণ্ডব চালিয়ে চলেছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতে তৈরি হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-ক্যাডাররা। তোলাবাজি, দাদাগিরি, টেন্ডার বাণিজ্যের নামে হাজার-হাজার কোটি টাকার লুট চলেছে। বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসায়ীদের ফ্যাসিবাদীদের দোসর ট্যাগ দিয়ে তাদের শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ জানালেই চলছে উন্মত্ত জনতাকে দিয়ে মারধর।পুলিশ ও প্রশাসন কার্যত অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিপোর্ট বলছে, গত ১০ মাসে ১৫ হাজার কোটির বেশি টাকা তোলা বাবদ আদায় করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম-হাসনাত আবদুল্লাহ-সারজিস আলমরা। ওই বিপুল টাকা পাচার করা হয়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, সুইৎজারল্যান্ড ও আমেরিকায়। জাতীয় নাগরিক পার্টি যা চালাচ্ছে তাকে অনেকেই মাফিয়াগিরির সঙ্গে তুলনা করছেন। আর এবার নিজের মুখেই ওই মাফিয়াগিরি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন এনসিপির শীর্ষ নেতা জোবাইরুল আলম মানিক।
গতকাল সোমবার (৯ জুন) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থান সফল করেছি। বিগত ১৬-১৭ বছর কেউ এ নেতৃত্ব দিতে পারেনি। এটি একটি রাজনৈতিক বিপ্লব। কেউ যদি বলে যে শিক্ষার্থীরা তাদের কাজ শেষ করেছে, তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যাক। আমরা বলব, ১৬ বছরের একজন মাফিয়াকে হটাতে পারছি। আমাদের বুঝ দিয়ে আবার যদি কেউ মাফিয়া হয়ে উঠতে চায়, আমরা তাদের বলব, এখন বাংলাদেশে যদি বড় মাফিয়া থাকে, আমরাই হচ্ছি বড় মাফিয়া। আমাদের চেয়ে বড় মাফিয়া নেই।’
মাফিয়া হয়ে ওঠার জন্য জনবল যে বড় বিষয় নয় তার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংখ্যা চিন্তা করার দরকার নেই। ১৮ জুলাই আমরা ২০-২৫ জন শাহ আমানত সেতু ব্লক করি। এমন কমসংখ্যক ছাত্র–জনতা নিয়ে যদি আমরা আনোয়ারা-কর্ণফুলী থেকে চট্টগ্রামে গিয়ে নেতৃত্ব দিতে পারি তাহলে এখন কেন পারব না।’