নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ‘প্রিয় বান্ধব’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ‘পাক দালাল’ মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের গলায়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। রবিবার (২৫ মে) বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সহ ভারত বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মোল্লা ইউনূস। ওই বৈঠকে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতন মেনে নিতে পারছে না দিল্লি। ভারতীয় আধিপত্যবাদ খতম হওয়ায় বাংলাদেশে নতুন করে রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ওই ষড়যন্ত্রের যোগ্য জবাব দদিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দিল্লিকে বুঝিয়ে দিতে হবে, বাংলাদেশ আর কখনই ভারতের গোলামি করবে না। গোলামি করতে হলে পাকিস্তান আর আমেরিকার গোলামি করবে।’
গত বুধবার সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের নির্বাচন নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প আছড়ে পড়েছে। ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তদারকি সরকারের প্রধধান উপদেষ্টা। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানানো বিএনপি এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামানকে একঘরে করতে সাইনবোর্ড সর্বস্ব রাজনৈতিক দল (নাগরিক ঐক্য, আমার বাংলাদেশ পার্টি, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) এবং জঙ্গি ও মৌলবাদী সংগঠন হেফাজত ইসলাম, ইসালামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাদের নিজের দিকে টেনেছেন।
এদিন ‘যমুনা’য় সিপিবি-সহ ভারত ও হিন্দু বিদ্বেষী দদলগুলির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মোল্লা ইউনূস। ওই বৈঠকে ভারত সম্পর্কে মনে পুষে রাখা বিষ উগরে দেন তিনি। বৈঠকে ইউনূস কী বলেছেন তা সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করে দেন সাইনবোর্ড সর্বস্ব ভুঁইফোড় সংগঠন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের কারণে দেশ বড় সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আর শেখ হাসিনার পতন মোদি সরকার মেনে নিতে পারছে না। আমাদের এই পরিবর্তনকে একেবারেই স্বীকার করতে চায় না। পারলে আমাদের এক দিনে ধ্বংস করে দিতে চায় এবং সেই জন্য যা যা করবার দরকার, সব তারা করছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশের ভেতরে ও বাইরে। যাতে আমরা এগোতে না পারি। যাতে সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। আবার যাতে দিল্লির গোলামিতে ফেরত যাই।’ ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আর্জি জানিয়েছেন ইউনূস। ‘অপারেশন সিঁদুর’ এর সময়ে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ যেভাবে শাহবাজ শরিফের সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ইউনূস বলেন, ‘দিল্লির বিরুদ্ধে কীভাবে লড়তে হবে, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমাদের শেখা উচিত।’ কোনও ভাবেই ডিসেম্বরে দেশে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে না বলে হুঙ্কারও ছেড়েছেন ইউনূস। তাঁর কথায়, ‘আমি যে দিন মনে করব, সেই দিন নির্বাচন দেব। সেনাপ্রধান বা বিএনপি নেতারা কী বললেন, তাতে কিছু আসে যায় না।’