নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামানের সঙ্ঘাতের পিছনে দিল্লির হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান নাহিদ ইসলাম। মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিতে সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে মুসলিম বিপ্লবেরও ডাক দিয়েছেন তিনি। কট্টর মৌলবাদী মুসলিম সংগঠনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে থাকা পাকিস্তানপ্রেমী কর্মী-আধিকারিকদেরও সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে পথে নামার আর্জি জানিয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের ইস্তফায় বাংলাদেশে নতুন করে গড়ে তোলা জঙ্গি ডেরা বন্ধ হয়ে যেতে পারে আশঙ্কা করে পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল শুক্রবারই (২৩ মে) সক্রিয় হয়ে উঠেছিল ঢাকায় অবস্থিত পাক দূতাবাসে কর্মরত আইএসআই এজেন্ট মুহাম্মদ আসিফ এবং কামরান ধাঙ্গাল। লস্কর-ই-তৈয়বা, জইশ-ই-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের মতো ভারত বিদ্বেষী জঙ্গি সংগঠনগুলি বাংলাদেশে যে নতুন প্রশিক্ষণ শিবির খুলেছে তা টিকিয়ে রাখতে কট্টর মুসলিম মৌলবাদী দলগুলির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও পাকিস্তানপ্রেমী জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠকে বসেছিলেন।
ওই বৈঠকের পরেই রাতে ফেসবুকে আইএসআইয়ের আধিকারিকদের তৈরি করে দেওয়া এক পোস্ট আপলোড করেছেন পাকিস্তানি এজেন্ট তথা জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান নাহিদ ইসলাম। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিকে সকল প্রকার আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করে স্বাধীন ও সার্বভৌমভাবে পরিচালনা করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশকে বারবার বিভাজিত করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করা হয়েছে, বাংলাদেশেকে দুর্বল করে রাখার লক্ষ্যে।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দিল্লির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে আবারও দিল্লি থেকে ছক আঁকা হচ্ছে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার, দেশকে বিভাজিত করার। গণতান্ত্রিক রুপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করে আরেকটা এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে। ’ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুসলিমদের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার ডাক দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক লিখেছছেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশপন্থী ও ধর্মপ্রাণ ছাত্র-জনতাকে সার্বভৌমত্ব, সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার ও সৈনিকদের সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশ রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’