নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর : ভোটার তালিকায় কারচুপি করার অভিযোগে ৪ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। ২১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে। বুধবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ডেকে এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে মুখ খুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বলির পাঁঠা হচ্ছেন মুখ্যসচিব।
মনোজ পন্থকে নিয়ে বলতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা বলেছেন, অত্যন্ত ভদ্র মানুষ। সৎ চরিত্রের। কিন্তু মাঝে পড়ে এই ধরনের সমস্য়ায় পড়তে হচ্ছে। রাজ্য সরকার জানে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানতে বাধ্য। শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস। এটি ছুটির দিন। কমিশনের নির্দেশ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা করার জন্য সময় দরকার। আগামী সপ্তাহে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্য সচিব সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলে জানালেন অধীর চৌধুরী।
ভোটের কাজে অনিয়মের অভিযোগে চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার আবদার জানিয়েছিলেন দিল্লির নির্বাচন সদনের শীর্ষ কর্তারা। ওই চার আধিকারিক সত্যিই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা নিয়ে তদন্ত করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। তবে চার আধিকারিককে সাসপেন্ড না করলেও দুজনকে ভোটের কাজ তেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার যেভাবে চার আধিকারিকের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে খুশি অফিসারদের সংগঠন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমলার কথায়, ‘নির্বাচন কমিশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে তারাই সর্বশক্তিমান নয়।’
চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ইস্যুতে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দিল্লিতে ডেকে ‘প্রবল চাপ’ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। বুধবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ দিল্লিতে কমিশনের দফতরে পৌঁছন মনোজ পন্থ। ঘণ্টাখানেকের বৈঠক হয়। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ডেকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। আগামী ২১ অগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।