নিজস্ব প্রতিনিধি: চার অফিসারকে সাসপেন্ড করা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্ঘাত তুঙ্গে পৌঁছল। কেন চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার ‘আবদার’ মানা হলো না, তার ব্যাখ্যা দিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে তলব করল কমিশন। আগামিকাল বুধবার (১৩ অগস্ট) বিকেল ৫টার মধ্যে দিল্লির নির্বাচন সদনে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে মুখ্যসচিব হাজিরা দেন কিনা, তাই এখন দেখার।
ভোটের কাজে অনিয়মের অভিযোগে চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার আবদার জানিয়েছিলেন দিল্লির নির্বাচন সদনের শীর্ষ কর্তারা। কিন্তু তাদের ওই আবদার মানল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ওই চার আধিকারিক সত্যিই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা নিয়ে তদন্ত করার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। তবে চার আধিকারিককে সাসপেন্ড না করলেও দুজনকে ভোটের কাজ তেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার যেভাবে চার আধিকারিকের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে খুশি অফিসারদের সংগঠন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমলার কথায়, ‘নির্বাচন কমিশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে তারাই সর্বশক্তিমান নয়।’
ভোটের কাজে অনিয়মের অভিযোগে চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। যাদের সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হয়েছিল তাঁরা হলেন, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী ও সহকারী ইআরও তথাগত মন্ডল, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকার ও এআইআরও সুদীপ্ত দাস। ওই চারজন আধিকারিক ছাড়াও ফর্ম-৬ প্রসেসিংয়ে যুক্ত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিত হালদারের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করার সুপারিশ করা হয়েছিল। যদিও কমিশনের ওই নির্দেশ জানার পরেই ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘চার অফিসারকে সাসপেন্ড কিংবা এফআইআর দায়েরর নির্দেশ কিছুই মানা হবে না। অফিসারদের পাশেই থাকবে রাজ্য সরকার।’ তাঁর ওই মন্তব্যের পরে নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে আসরে অবতীর্ণ হয় ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে বিদ্ধ নির্বাচন সদনের আধিকারিকরা।
রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে চার আধিকারিককে সোমবার (১১ অগস্ট) বেলা তিনটের মধ্যে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশ রাজ্য সরকার মানবে কিনা, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু দেখা যায় কমিশনের নির্দেশ মানেনি রাজ্য সরকার। নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্রকে চিঠি পাঠিয়ে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানিয়ে দেন ‘চারজন অফিসার ও একজন ডেটা এন্ট্রি কর্মীর বিরুদ্ধে এখনই কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। জেলা বা ব্লক স্তরের অফিসারদের একাধিক দায়িত্ব থাকে—নির্বাচনী কাজ ছাড়াও সময় ধরে বহু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে অনেক সময়ে বিশ্বাসের ভিত্তিতে অধীনস্থ কর্মীদের কিছু দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।’ মুখ্যসচিবের যুক্তি, ‘যেসব আধিকারিক এতদিন নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্তের আগে কড়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া সঠিক হবে না। এতে শুধু অভিযুক্ত নয়, প্রশাসনের সর্বস্তরের আধিকারিক-কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়তে পারে। আপাতত তমলুক ব্লকের পিএএও ও ময়না আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার সুদীপ্ত দাস এবং বারুইপুর পূর্ব আসনের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের নির্বাচনী দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর কমিশনকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হবে।’