নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নতুন বছরেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাজের রোস্টার ঠিক করে দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। এবার সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে আরও এক নির্দেশিকা সামনে আনল দফতর। সোমবার এই নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শর্ত। কোন চিকিৎসকরা প্র্যাকটিস করতে পারবেন, কোথায় রোগী দেখা যাবে, তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘নো অবজেকশন’ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হাসপাতালের বাইরে চেম্বারে রোগী দেখার জন্য এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) নেওয়া বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, নন প্র্যাক্টিসিং অ্যালাউন্স বা এনপিএ গ্রহণ করলে মিলবে না ওই এনওসি। অর্থাৎ যাঁরা এনপিএ নেবেন, তাঁরা হাসপাতালের বাইরে রোগী দেখতে পারবেন না। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা বা স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে থেকে অনুমতি নিতে হবে। তারপরই মিলবে প্রাইভেট প্র্যাক্টিসের ছাড়পত্র। সরকারি জায়গা বা কোয়ার্টারেও প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকছে। তবে পোস্টিং অর্থাৎ কর্মস্থলের ২০ কিলোমিটারের বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা যাবে না। অর্থাৎ, উত্তরবঙ্গের হাসপাতালে চাকরি করে কলকাতা-সহ সংলগ্ন প্রাইভেট প্র্যাকটিস চলবে না।
এ বিষয়ে সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সাধারণ সম্পাদক উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা সম্পূর্ণ ভাবেই আমাদের হাত–পা বেঁধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা। যাঁরা আর জি কর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ।” স্বাস্থ্যভবনের একাধিক কর্তা অবশ্য জানাচ্ছেন, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু সরকারি ডাক্তার সরকারি হাসপাতালের পরিষেবায় ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে বেশি সময় দিচ্ছেন। দূরের বেসরকারি পরিসরে পরিষেবা দিতে হলে সরকারি কাজের সময় কম হচ্ছে। ফলত রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে। সে জন্যই এই কড়াকড়ি।
উল্লেখ্য, অনেক সময় দেখা যায় ‘প্র্যাকটিস করি না’—একথা লিখিতভাবে জানিয়েও সরকারি ডাক্তারদের একাংশ লুকিয়ে চুরিয়ে চেম্বার চালান। পাশাপাশি মূল বেতনের ১৫ শতাংশ ‘নন প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স’ হিসেবে পকেটস্থও করেন। সিনিয়র পদভেদে সেই টাকার অঙ্ক মাসে ১৬ থেকে ২২ হাজার টাকা! অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, প্যাথোলজি, ফার্মাকোলজি ও অন্যান্য শাখার শিক্ষক চিকিৎসকদের প্রায় সকলেই ‘নন প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স’ নেন। কিন্তু এঁদেরও অন্তত ২০-৩০ শতাংশ চুটিয়ে রোগী দেখেন। আর মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, অর্থো, শিশুরোগ সহ ক্লিনিক্যাল বিষয়ের শিক্ষক চিকিৎসকদের ৮০-৯০ শতাংশই ওই ভাতা নেন না। প্র্যাকটিস করেন। আর অধিকাংশই তা করেন ডিউটি টাইমে। আর এই সমস্ত বিষয়ে লাগাম টানতেই শক্ত হাতে হাল ধরল স্বাস্থ্য ভবন।