নিজস্ব প্রতিনিধি: কথায় বলে, প্রতিটি প্রাণই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই রোগীদের প্রাণ সুরক্ষিত করতে কড়া পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য দফতর। আগে সিনিয়র চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতেই অপারেশন করতে পারতেন পিজিটি বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি ডাক্তারি পড়ুয়ারা। এবার সেই ক্ষেত্রেই জারি হল নিষেধাজ্ঞা। শনিবার রাজ্যের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ এবং অধ্যক্ষদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্বাস্থ্য দফতর জানায় যে, কোনও পিজিটি বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি রাজ্যের কোনও সরকারি হাসপাতালে অপারেশন করতে পারবেন না। সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতিতেই করতে হবে রোগীর অস্ত্রোপচার।
স্বাস্থ্যদফতরের এক শীর্ষকর্তার পাঠানো ওই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় অধ্যক্ষদের বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজের অপারেশন থিয়েটারের বাইরে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে, যাতে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়, অপারেশন থিয়েটারে ঠিক কারা কারা ঢুকছেন।স্বাস্থ্যদফতর সূত্রে খবর, রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের সিদ্ধান্তের পরেই এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত মাসকয়েক আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি মৃত্যু নিয়ে পরিসংখ্যান করেছে স্বাস্থ্য দফতর। সেই পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, আশ্চর্যজনকভাবে রাতের দিকে প্রসব বেড়ে গিয়েছে। আর সেই সব সময় ওটিতে কোনও সিনিয়র চিকিৎসকই থাকতেন না। থাকতেন শুধুমাত্র শিক্ষার্থী চিকিৎসক বা পিজিটিরা। এছাড়াও কিছুদিন আগে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে হওয়া এক প্রসূতি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়েও দেখা যায়, তৃতীয় বর্ষের এক পিজিটি অপারেশন করেছিলেন। স্বাস্থ্যকর্তাদের সাফ কথা, পিজিটি অপারেশন করতেই পারেন বা অংশ নিতেই পারেন সাহায্যকারী হিসেবে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেদিন ওটিতে কোনও সিনিয়র চিকিৎসকই উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় বছর তিরিশের ওই প্রসূতির।
খোঁজখবর নিয়ে স্বাস্থ্যকর্তারা জানতে পেরেছেন, এতে শুধুমাত্র পিজিটিদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ, বিকেল হওয়ার আগে থেকেই অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত একাধিক বিভাগের বহু সিনিয়র সার্জনকে আর হাসপাতালে দেখাই যায় না। তাঁরা নিজ নিজ চেম্বার এবং প্রাইভেটে ‘কেস’ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাই রোগী সামলানোর গুরুদায়িত্ব দিয়ে যান নিজের ‘প্রিয়’ বা ‘অতিবিশ্বস্ত’ পিজিটিদের ওপরেই। আর এতেই ঘটে নানা বিপত্তি। তাই রোগী সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতে কড়া হাতে হাল ধরছে স্বাস্থ্যদফতর।