নিজস্ব প্রতিনিধি :প্রযুক্তির যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমন রয়েছে এই নেতিবাচক দিক। প্রযুক্তির খারাপ দিকটাকেই ব্যবহার করছে প্রতারকরা। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নকল করে তৈরি হয়ে চলছে অনুপ্রবেশকারীদের আধার। মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট। পোস্ট অফিসে আধার পরিষেবা সঙ্গে যুক্ত থাকা ডাকসেবকদের একাংশের আঙুলের ছাপ দ্রুত বাইরে চলে আসছে। তাঁকে ব্যবহার করেই চলছে অনুপ্রবেশকারীদের আধার তৈরির কাজ।
জানা গিয়েছে, ‘সিলিকন মোল্ড কিটে’র সাহায্যে ওই ডাকসেবকদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাতে চলে আসছে। তার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে আধার সেন্টারের কোড থেকে শুরু করে কম্পিউটারের আইপি অ্যাড্রেস, ইউআইডিএআই পোর্টালের ইউজার আইডি, ও পাসওয়ার্ড। সেই ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আধারকার্ড বানানো কোনও সমস্যাই নয়। নকল নয়, তৈরি হয়ে যাচ্ছে আসল আধার কার্ড। ফলে কোনও অনুপ্রবেশকারী দ্রুত ভারতীয় নাগরিকের তকমা পেয়ে যাচ্ছে।
ওই আধআর দেখিয়ে তৈরি হচ্ছে প্যান ও ভোটার। ফলে ওই ব্যক্তি যে অনুপ্রবেশ করেছে তা প্রমাণ করা সমস্যার। জালিয়াতদের সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছে ডাকসেবকদের বিরুদ্ধেই। আধার সেন্টারের কর্মীদের অনেকেও জড়িয়ে এই চক্রে।
উল্লেখ্য, জাল আধারকাণ্ডে উত্তর দিনাজপুরের ডাকবিভাগের চুক্তিভিত্তিক এক কর্মী বিধান মুর্মুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সামনে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
উত্তরপ্রদেশেও এমন ভুয়ো আধারকার্ড চক্রের হদিশ মিলেছিল। পোর্টালের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে আধার তৈরি হচ্ছে। মাঝে শুধু ৪ মাসের ব্যবধান। এবার বাংলাতেও মিলল সেই চক্রের হদিশ। গত মাসেই জাল নথি তৈরির অভিযোগে বীরভূম থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশ। তাদের জেরা করেই খোঁজ মিলেছিল উত্তর দিনাজপুরের একটি পোস্ট অফিসের ডাকসেবক বিধানের।তার কাছে থেকেই আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসে। চক্রের পান্ডারা বাইরে বসেই একাজ করছে। আধআর বানাবার পোর্টালে ঢুকে জালিয়াতরা কাজ করছে। অভিযোগ, নিজের আঙুলের ছাপ কোথাও ৮ হাজার আবার কোথাও ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করছে ডাকসেবকরা। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা।