নিজস্ব প্রতিনিধি: কর্মই জীবন, কিন্তু আজ কাজ আছে তো কাল নেই, সুতরাং ভবিষ্যত অনিশ্চিত। তাই কাজ করতে করতেই সঞ্চয় করে রাখা খুবই দরকার। কেননা আগামী দিনের নিশ্চয়তা কারও কাছেই নেই। তাই ফল ছাড়াই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে সকলকে। টাকা ছাড়া ভবিষ্যত অনিশ্চিত। তাই প্রতিটি মানুষেরই সঞ্চয় করে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তার জন্যে দরকার নিরাপদ ও সঠিক বিনিয়োগ, যেখান থেকে শক্তিশালী রিটার্ন পাওয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে মানুষের প্রথম ভরসার জায়গা পোস্টঅফিস। কেননা ডাকঘর পরিচালিত স্কিমগুলিকে নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করা যায়। কারণ এই স্কিমগুলিতে, সরকার নিজেই বিনিয়োগকারীদের অর্থের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। আর তাতে সুদের হারও দুর্দান্ত। তাছাড়া পোস্টঅফিসে প্রতিটি শ্রেণী এবং প্রতিটি বয়সের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র একাধিক সঞ্চয় স্কিম রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিশেষ স্কিম হল কিষাণ বিকাশপত্র স্কিম, যা বিনিয়োগকারীদের মাত্র ১১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের অর্থ দ্বিগুণ করার গ্যারান্টি দেয়। চলুন এবার এই স্কিম সম্পর্কিত বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া যাক….
আজকাল সবাই কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন। আর তার মধ্যে কিছু পরিমাণ সঞ্চয় করেন। আর ভবিষ্যতে আর্থিক সুরক্ষার জন্যে কিছু সঞ্চয় বিনিয়োগ করে রাখেন। এক্ষেত্রে পোস্টঅফিস কেভিপি স্কিম, খুবই জনপ্রিয় একটি স্কিম। এটি বিনিয়োগের উপর দুর্দান্ত রিটার্ন দেয়। পাশাপাশি বিনিয়োগেরও কোনও ঝুঁকি নেই। এই স্কিমের অধীনে, সর্বনিম্ন ১০০০ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন বিনিয়োগকারীরা । পাশাপাশি এতে বিনিয়োগের কোনও সীমা নেই। অর্থাৎ, আপনি যতখুশি বিনিয়োগ করতে পারেন। পোস্টঅফিস এই কিষাণ বিকাশপত্র বিনিয়োগের উপর ৭.৫% সুদের হার প্রদান করে। যা আপনার অর্থ দ্বিগুণ করবে। তবে এই সুদের হার বার্ষিক ভিত্তিতে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের মেয়াদপূর্তির সময়কাল ১১৫ মাস। পাশাপাশি, বিনিয়োগকারীরা কেভিপি প্রকল্পের অধীনে একক এবং দ্বিগুণ উভয় অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এবং একজন ব্যক্তি একাধিক অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেন। এর অর্থ হল এর জন্য কোনও সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। যদি কোনও বিনিয়োগকারী একসঙ্গে দুটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে চান, তা করতে পারেন।
পাশাপাশি আরও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এই স্কিমে ১০ বছরের বেশি বয়সী শিশুর নামেও অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। তবে এই স্কিমটি বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দের কারণ হল, মাত্র ১১৫ দিনেই এই স্কিমে অর্থ দ্বিগুণ হয়ে যায়। আসলে এই সরকারি স্কিমে, বিনিয়োগের পরিমাণের উপর সুদ চক্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে গণনা করা হয়। যদি আমরা ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করি, তাহলে এই পরিমাণ বিনিয়োগ করলে, ৭.৫ শতাংশ সুদের ভিত্তিতে, প্রথম বছরের শেষে এর উপর প্রাপ্ত সুদ হবে ৭৫০০ টাকা এবং এই পরিমাণ পরবর্তী বছরের জন্য মূল পরিমাণে যোগ করা হবে এবং পরিমাণ বেড়ে ১,০৭,৫০০ টাকা হবে। এই পরিমাণের সুদ দ্বিতীয় বছরে ৮,০৬২ টাকা হবে। তৃতীয় বছরের মূল টাকার সঙ্গে যোগ করলে এই পরিমাণ ১,১৫,৫৬২ টাকা হবে। একইভাবে, আগামী বছর গুলিতে এই পরিমাণ বাড়তে থাকবে। যদি বিনিয়োগ কারী ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে বছরের পর বছর মুনাফা পেতে পেতে মেয়াদপূর্তিতে বিনিয়োগকারীরা ১০ লক্ষ টাকা পাবেন।