নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়ে নতুন আবেদন করা সত্ত্বেও মিলছে না এটিএম কার্ড। এর জেরেই সমস্যায় পড়েছেন লক্ষ লক্ষ গ্রাহক। আদৌ কবে গ্রাহক এটিএম কার্ড হাতে পাবেন, তা কেউ জানে না। পোস্ট অফিসের এটিএম কার্ড পরিষেবার ক্ষেত্রে এই সমস্যায় গ্রাহক-দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্কের মতো পোস্ট অফিসে এটিএম পরিষেবা চালু করা হয়েছিল গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে। সেই সময় দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার এটিএম বসানো হয়েছিল। বাংলায় বসানো হয়েছিল প্রায় ৬০টি এটিএম মেশিন। পোস্টঅফিসে সেভিংস অ্যাকাউন্টে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় কয়েক কোটি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মাত্র ৬০টি এটিএম কাজেই দেয়না। দপতর সূত্রে খবর, এটিএমের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে নারাজ ডাক বিভাগ। তবে তাদের এটিএম কার্ড অন্যান্য ব্যাঙ্কের এটিএমেও ব্যবহারযোগ্য করতে চাইছে। সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির তুলনায় সার্ভিস চার্জ কম থাকার কারণে খুব কম সময়ে মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল পোস্টঅফিসের এটিএম। কিন্তু মেয়াদ পেড়িয়ে যাওয়ার পর নতুন করে কার্ড ইস্যু করা হলেও কার্ড হাতে পাননি ব্যবহারকারীরা। ফলে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।
কার্ড পেতে এত বিলম্ব কেন? দফতর সূত্রে খবর, অন্যান্য ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে কার্ডগুলির মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর। পোস্ট অফিসের এটিএম কার্ডের মেয়াদ পাঁচ বছর। সেইমতো যাঁরা পোস্ট অফিস এটিএম পরিষেবা শুরুর সময় কার্ড নিয়েছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগের কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরেপ ৩১ মার্চ। ফলে বাধ্য হয়ে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন তাঁরা। কিন্তু আবেদন করাই সার। কার্ড হাতে পাননি।
দফতর সূত্রে খবর, যে সংস্থা কার্ড তৈরির বরাত পেয়েছে, তাদের সঙ্গে আর্থিক বিষয়ে কোনও সমস্যা হওয়ায় কার্ডের ডেলিভারি হচ্ছে না। নতুন কার্ড ছাপিয়ে আসতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। কতদিনে সেই কার্ড পাওয়া যাবে, তার কোনও জবাব নেই। দেশজুড়ে পোস্ট অফিসের এটিএম পরিষেবায় সঙ্কট চলছে। অন্যদিকে, যেসকল এটিএম মেশিন এতদিন চালু ছিল, বিগত কয়েকমাসে সেগুলিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ডাকঘরগুলিতে পরিষেবার হাল অত্যন্ত খারাপ। সাধারণ গ্রাহকরা চরম সমস্যায়।