নিজস্ব প্রতিনিধি, বামনপাড়া: সন্তান জন্মের পর নতুন সদস্যের আগমনে বাবা-মা সকলকে মিষ্টি খাওয়ান। এটাই সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু ভিন্ন চিত্র দেখা গিয়েছে জলপাইগুড়িতে। ছেলের জন্মের আনন্দে নার্সিংহোমের কর্মীদের মিষ্টিমুখ করানোর পরিবর্তে তুলে দিয়েছিলেন নিমের চারা। এখানেই শেষ নয়, সেই নবজাতকের বয়স এখন ১৪। এই ১৪ বছর ধরে ছেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে গাছের চারা বিলি করেন জলপাইগুড়ির দেব দম্পতি।
জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির বামনপাড়ার বাসিন্দা মৃদুল ও শুভ্রা। ১৪ বছর আগে তাঁদের জীবনে আসে একমাত্র ছেলে শীর্ষচন্দ্র। প্রতিবার তাঁর জন্মদিন ১১ সেপ্টেম্বর গাছের চারা বিলি করেন দেব দম্পতি। এবার জন্মদিনের অনেক আগে থেকেই চারা বিলি শুরু করেছেন। এবার তাঁদের লক্ষ্য ৬০ হাজার চারা বিলি করা। তাঁদের বাড়ির সামনেই থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা। প্রায় ২০ রকমের চারা রয়েছে। নিজের নিজের পছন্দ মত চারা নিয়ে যাচ্ছেন পথচারি থেকে এলাকাবাসী। গত ১৪ বছরে প্রায় ৬ লক্ষ গাছের চারা বিলি করেছে দেব দম্পতি।
এই পরিবারের উদ্যোগে জলপাইগুড়ির বামনপাড়ায় গড়ে উঠেছে বীজ ভাণ্ডার। এই কাজ সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন ক্লাবের ছেলেরাও। স্থানীয়রা কেউ ফল খেয়ে বীজ ফেলে দেন না। তাঁরা বীজভান্ডারে দিয়ে যান সমস্ত বীজ। ৩ বছর আগে ট্রাকে করে বস্তা ভর্তি বীজ নিয়ে গিয়ে ছড়িয়ে আসা হয়েছিল গোরুমারার জঙ্গলে। এখন তিস্তার পাড়ে ফুল, ফলের বীজ ছড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে ওই দম্পতির। ইতিমধ্যে ফুল ফলের বীজ সংগ্রেহ কাজ চলছে। শুভ্রা দেব জানিয়েছেন, কোনও বাড়িতে অনুষ্ঠান হলে উপহার নিয়ে আসেন অনেকে। কিন্তু রিটার্ন গিফট হিসেবে গাছের চারা দেওয়া হয়।