নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জন্মদিন মানেই দারুণ আয়োজন, কেক কাটা, মাংস ভাত খাওয়া। কিন্তু সেই খাওয়ায় আনন্দ কোথায়? খেতে গিয়ে যদি আপনার চোখে ক্ষুধার্ত আর্ত মানুষগুলোর মুখই না ভেসে উঠল তাহলে আর আপনি মানুষ কীসে? চা বিক্রেতা রাজু দের’ও তাই হত। বহু দিনের ইচ্ছা ছিল আর্তদের খাওয়াবেন। কিন্তু সাধ আর সাধ্য মিলছি না। রোজগার কম। একটা ছোট চায়ের দোকান।
তার আয় আর কত। তাতেই তো সংসার চলে, চলে সন্তানদের পড়াশোনা। তাই ইচ্ছেটা মনে মনে জমিয়ে রেখেছিলেন রাজু। অবশেষে এল সাধ পূরণের সময়। স্বপ্ন সত্যি করে মেয়ের ১২ বছরের জন্মদিনে সস্ত্রীক রক্তদান করলেন রাজু। তারপর প্রাণভরে খাওয়ালেন ভিক্ষুকদের। বন্ধুবান্ধবদের খাওয়ানো, জাঁকজমক করে কেক কাটা এই সবের থেকে বিরত থেকে মেয়ের জন্মদিন একদম ভিন্নভাবে পালন করলেন তিনি।
রাজু দে’র চায়ের দোকান জলপাইগুড়ির বড় পোস্ট অফিস মোড়ে। চায়ের দোকান বহু বহু বছরের। লোকের মুখে মুখে ফেরে চায়ের গুণগান। স্থানীয় যত সরকারি-বেসরকারি অফিস আছে, সব জায়গার কর্মী রাজুর চায়ের ভক্ত। সেই সঙ্গে এই চা বিক্রেতা পরিচিত পরোপকারী হিসাবেও। যখন যিনি বিপদে পড়েন, পাশে আছেন রাজু। কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য সীমিত।
রাজু এক বিরল গ্রুপের রক্তের অধিকারী। তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘এবি’ পজিটিভ। এই গ্রুপের রক্ত পাওয়া খুব দুষ্কর। তিনি নিজেও সেটা জানেন। তাই রক্ত দেওয়ার ডাক আসলে ফেরান না কাউকেই। সে এ রাজ্যের মধ্যেই হোক, বা ভিন রাজ্য।
দুই মেয়ের জন্মদিনে ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে রক্ত দিতে ভোলেন না রাজু। বুধবার ছোট মেয়ে ঈশিকার ১২ বছরের জন্মদিনেও তার অন্যথা হল না। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এ দিন তিনি জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে রক্তদান করে এসেছেন রাজু। তাঁর মতোই মনে করেন স্ত্রী শম্পা সরকারও। তিনিও বিরল গ্রুপের রক্তের অধিকারী। ‘এ’ গ্রুপের রক্ত তাঁর। ফলে এই গ্রুপের রক্তেরও কেমন আকাল তা তিনি জানেন। সেই জন্যই স্বামীর সঙ্গে শম্পাও যান রক্তদান করতে।
রক্তদানের পাশাপাশি মেয়ের জন্মদিনে এলাকার কয়েকজন ভিক্ষুককে খাইয়েছেন। রাজু ও শম্পা বিশ্বাস করেন তাঁদের আশীর্বাদে ঈশিকার জীবন ভরে উঠবে আনন্দে।