নিজস্ব প্রতিনিধি: ট্যাব কাণ্ডের(Tab Scam) তদন্ত করতে গিয়ে একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের(West Bengal Police) হাতে। প্রথমে শুধুমাত্র কয়েকটি জেলা থেকে ট্যাবের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন স্কুল শিক্ষকরা। পরবর্তীতে তদন্ত এগোতে থাকলে জানা যায়, রাজ্যের সর্বত্রই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। কেউ বা কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অ্যাকাউন্ট নম্বর বদলে দিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন। এরপরই আরও তৎপর হয়ে ওঠে রাজ্য সরকার(West Bengal Government)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য আগেই বঞ্চিত ছাত্রছাত্রীদের অ্যাকাউন্টে ট্যাব কেনার টাকা পাঠানোর কথা ঘোষনা করেছেন। এদিকে ট্যাব-কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মাথাদের ধরতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ রক্তে ভিজল পাকিস্তান, যাত্রীবাহী বাসে নির্বিচারে গুলি জঙ্গিদের, ঝাঁঝরা ৩২ জন
ইতিমধ্যেই ট্যাব কাণ্ডে বেহাত হওয়া ৫০ লক্ষ টাকা ব্লক করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের যৌথ তদন্তকারী টিমের তরফ থেকে। ফ্রিজ করা হয়েছে প্রায় ১১৯৭টি অ্যাকাউন্ট। ভুয়ো নথি দিয়ে এগুলি খোলা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। এই টাকা সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিলেই তার কপি ব্যাঙ্কের কাছে পাঠানো হবে। ট্যাব কেলেঙ্কারিতে অন্যতম মাস্টার মাইন্ড রবীন্দ্র প্রসাদ সিং সহ বিভিন্ন জেলা থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশ।
ট্যাব কাণ্ডের তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারেন, কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট (সিএসপি) থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তির নথি গিয়েছে জালিয়াতদের হাতে। অন্যের নথি ব্যবহার করে খোলা হয়েছে জাল অ্যাকাউন্ট। বিভিন্ন জেলার একাধিক সিএসপি এখন তদন্তকারীদের নজরে। যে নথি দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলি খোলা হয়েছিল, সেগুলি কোন কোন সিএসপি থেকে টাকার বিনিময়ে কিনেছিল প্রতারক চক্রের পান্ডারা, সেটাই ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ট্যাব-কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(CM Mamata Banerjee)। এদিন নবান্নে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ১৬০০ কোটি টাকা খরচ করে ২ কোটি পড়ুয়াকে ট্যাবের টাকা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ২ কোটি টাকার অসাধু কারবার করেছে জামতাড়া গ্রুপ। এটি ঝাড়খণ্ড-বিহারের গ্যাং। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শেল্টার নিয়ে এরা শপিং মলে আড্ডা মারছে, গেস্ট হাউস-হোটেলে থাকছে। এদিন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে আরও কড়া নজরদারি রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। খুব শীঘ্রই রাজ্য পুলিশ এবং সাইবার কর্তাদের তৎপরতায় এই কাণ্ডের জাল পুরোপুরি ছিঁড়ে ফেলা হবে বলেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।