নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে ট্যাব জালিয়াতিকাণ্ডের তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশ। একাধিক অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে তদন্তকারীরা। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়ল এক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। এর পাশাপাশি আরও এক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম দারাজুল ইসলাম। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার মাঝিয়ালি হাই স্কুলের শিক্ষক তিনি। ধৃতকে প্রাথমিকভাবে জেরা করে ট্যাবের টাকা ভুয়ো পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরে সরানোর অভিযোগে সীমান্তবর্তী ওই হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুমতাজুল ইসলাম ওরফে জুয়েলের নাম উঠে আসে। তবে সেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের কিনারা করতে না পারলেও মাঝিয়ালি এলাকায় ওই শিক্ষকের সিএসপির ভাড়া ঘর সিল করে দেয় কলকাতার তদন্তকারী গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়াও তাঁর সাইবার ক্যাফেটি বন্ধ করেও দেওয়া হয়েছে। ট্যাব দুর্নীতির ঘটনায় জড়িত চোপড়ার একের পর এক অভিযুক্তরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের তদন্তকারী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতেই মাঝিয়ালি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গা ঢাকা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে ১০ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠালে সেই টাকা পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে না গিয়ে ভুয়ো অ্যাকাউন্টে চলে যায়। এরপরই অর্থ তছরূপের ঘটনায় জেলা এবং কলকাতা পুলিশের তরফে সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। গ্রেফতারও হয়েছে বেশ কয়েকজন। বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গের বলেই জানা গিয়েছে। সেখান থেকেই এই জালিয়াতির সূত্রপাত বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। যেভাবে অ্যাকাউন্ট জালিয়াত হয়েছে, তাতে জামতাড়া গ্যাংয়ের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। এবার সেই জামতাড়া গ্যাংয়ের কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়েছেন, জালিয়াতি রুখতে বিশেষ মেকানিজমের সাহায্যে নয়া আইন আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।