নিজস্ব প্রতিবেদন: মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ৪৯ বছর বয়সী এক ওষুধের দোকানের মালিক তাঁর মেয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে বিয়ে করার কারণে নিজেই আত্মহত্যা করেন। এবং তাঁর শেষ চিঠিতে লিখে যান, এটা তুই ঠিক কাজ করিসনি (কন্যার নাম)। কীভাবে এটা করতে পারলি। তোদের দু’জনকেই মেরে ফেলতে পারতাম। কিন্তু নিজের মেয়েকে কী ভাবে খুন করব, তাই নিজেই চলে যাচ্ছি। সুইসাইড নোটে মেয়েকে উদ্দেশ করে লেখা কয়েকটি কথা। পাশেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ওই ওষুধ ব্যবসায়ীর দেহ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিরঞ্জন শর্মা জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীর কন্যা অন্য জাতের যুবককে বিয়ে করেছেন। আর সেখান থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। কন্যার এই কাজে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সুইসাইড নোটে সেই উদ্বেগের কথাও প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী। তিনি লিখেছেন, ‘‘এই ঘটনা আমার পুরো পরিবারকে শেষ করে দিল। কেউ আমার যন্ত্রণা বুঝল না।’’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ীর নাম ঋষিরাজ ওরফে সঞ্জু জয়সওয়াল। তাঁর কন্যা হর্ষিতা পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। আর এই ঘটনাটি কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারেননি সঞ্জু। ওই এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে দিন পনেরো আগে পালিয়ে যান তাঁর কন্যা। ইনদওরে তাঁদের খোঁজ মেলে। বাড়িতে ফিরে এসে জানান, আইনি ভাবে তিনি বিয়ে করেছেন প্রেমিককে। তাঁর সঙ্গেই চলে যেতে চান।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে টানাপড়েন চলছিল। কিন্তু কন্যার জেদের কাছে হার মানতে হয় সঞ্জুকে। বুধবার রাতে সঞ্জুর বাড়ির সকলে শুতে চলে যান। গভীর রাতে গুলি চলার আওয়াজ শুনে তাঁরা জেগে ওঠেন। গিয়ে দেখেন নিজের মাথায় গুলি করেছেন সঞ্জু। ঘর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। পরিবারের লোকজন চিৎকার করে পড়শিদের ডাকেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও। সঞ্জুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, যে ঘর থেকে সঞ্জুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে, সেই ঘরে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। কন্যাকে উদ্দেশ করে লেখা সেই নোট। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘হর্ষিতা, তুই ঠিক কাজ করলি না। তোদের দু’জনকেই মেরে ফেলতে পারতাম। কিন্তু আমি তো তোর বাবা, তাই পারলাম না। আমি নিজেই চলে যাচ্ছি।’’