নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মব ও মগের মুল্লুক। আইনের আদ্যশ্রাদ্ধ করে জঙ্গি আর মৌলবাদীদের তোয়াজে মত্ত পাকিস্তানের পোষ্য সরকার। আর ইউনূস সরকারের অবৈধ কাজের আরও এক প্রমাণ প্রকাশ্যে। অবৈধভাবেই গত বছরের ৮ ডিসেম্বর জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা তথা তদারকি সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্স দিয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ওই লাইসেন্স পেতে আসিফকে সাহায্য করেছিলেন হিযবুত তাহরীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি। কীভাবে ৩০ বছর না হওয়া সত্বেও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টাকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হল তা জানতে চাওয়া হলে জামায়াত ইসলামী নেতা তথা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী খানিকটা ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলেন, ‘সরকারের লোকদের জন্য আইন শিথিল করা যায়। যাকে খুশি আগ্নেয়াস্ত্র দেব। লিখে কিছু করতে পারলে করে নিন।’
গত রবিবারই মরক্কো যাওয়ার পথে ঢাকা বিমানবন্দরে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যাগ থেকে একে-৪৭ রাইফেলের ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়। ওই খবর ধামাচাপা দিতে আদাজল খেয়ে ঝাঁপিয়েছিল তদারকি সরকার। একাধিক সংবাদমাধ্যমে ফোন করে এ সংক্রান্ত খবর সরানোর নির্দেশ দেন ইউনূসের প্রেস সচিব তথা হিযবুত জঙ্গী শফিকুল আলম। যদিও ততক্ষণে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার ব্যাগ থেকে ম্যাগাজিন উদ্ধারের ফুটেজ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খানিকটা বাধ্য হয়ে মরক্কো থেকে ফেসবুক পোস্টে হাস্যকর সাফাই দেন আসিফ। কিন্তু সেই সাফাই দিতে গিয়ে নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন কীভাবে ৩০ বছর না হওয়া সত্বেও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্স পেলেন ইউনূসের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা? কবেই বা পেলেন? যদিও আসিফ কবে লাইসেন্স পেয়েছেন তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। উল্টে চশমার সঙ্গে একে ৪৭ রাইফেলের ম্যাগাজিন উদ্ধারের তুলনা করে হাসির খোরাক হন।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি জানিয়েছেন, গত বছরের নভেম্বরে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার লাইসেন্সের জন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের কাছে আর্জি জানান আসিফ। গত বছরের ২ ডিসেম্বর ওই আবেদন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের তরফ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছিল। ৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-৪ শাখার উপ-সচিব ইসরাত জাহান কুমিল্লা জেলা প্রশাসককে এক চিঠিতে জানান, আসিফকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হোক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আপত্তির পরেই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টাকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। কীভাবে আইনে না থাকা সত্বেও লাইসেন্স দেওয়া হল জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্র সচিব জানান, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নির্দেশেই আইন ভেঙে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টাকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।’