নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ব্যাগ থেকে AK-47 রাইফেলের ম্যাগাজিন উদ্ধার হওয়া নিয়ে রবিবার (২৯ জুন) রাতে হাস্যকর সাফাই দিলেন মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। সমাজমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি সাফাই দিয়েছেন, ‘বাড়ি থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরনোর সময়ে কার্তুজ ভর্তি ম্যাগাজিন বের করে রাখতে ভুলে গিয়েছিলেন।’ যদিও ওই হাস্যকর যুক্তি নিয়ে রসিকতায় মেত উঠেছেন নেটা নাগরিকরা। অনেকেই মজ করে লিখেছেন, ‘খলের হয় না ছলের অভাব।’
এর আগে এদিন সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাগ থেকে AK-47 রাইফেলের একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। কেন ওই AK-47 রাইফেলের ম্যাগাজিন নিজের কাছে রেখেছেন, তার কোনও জবাব দিতে পারেননি যুব উপদেষ্টা। বেশ খানিকক্ষণ তাকে আটকে রাখা হয়। ওই খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বিমানবন্দরে উপস্থিত হন স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি। তার হস্তক্ষেপেই ছাড়া পেয়ে মরক্কোর উদ্দেশে রওনা হন আসিফ মাহমুদ। খোদ যুব উপদেষ্টার ব্যাগ থেকে AK-47 রাইফেলের ম্যাগাজিন উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে শোরগোল পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ইউনূসের প্রেস সচিব তথা হিযবুত তাহরীর জঙ্গি শফিকুল আলম ফোন করে ওই সংবাদমাধ্যমগুলিকে ফোন করে এ সংক্রান্ত খবর মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অমান্য করলে ওই সব সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকিও দেন। সেই হুমকির পরে এ সংক্রান্ত খবর সরিয়ে ফেলে ‘ঢাকা পোস্ট’, ‘বার্তা ২৪’ সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম।
ঢাকা বিমানবন্দরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘মরক্কোর মারাকেশে ইসলামিক দেশগুলির (ওআইসি) এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মরক্কো যাচ্ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এদিন সকাল সাতটা বেজে আট মিনিটে মরক্কোগামী তার্কিশ এয়ারলাইন্সের (টিকে-৭১৩) বিমানে ওঠার আগে বোর্ডিং ব্রিজ-০৯ এ লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় দায়িত্বরত এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সদস্যরা AK-47 রাইফেলের ম্যাগাজিনটি শনাক্ত করেন। এ নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। আসিফ মাহমুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এভসেক সদস্যরা। খবর পেয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং AK-47 রাইফেলের ম্যাগাজিনটি নিজের হেফাজতে নেন। এরপর আসিফ মাহমুদকে গ্রিন চ্যানেলের মাধ্যমে বিমানে উঠিয়ে দেওয়া হয়।’
জেরার সময়ে আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ার কারণে ভুলবশত AK-47 রাইফেলের ম্যাগাজিনটি তার লাগেজে থেকে গিয়েছিল এবং এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ঘটনা। এই প্রথম নয়, এর আগেও একবার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হেলিকপ্টারে ওঠার চেষ্টা চালিয়েছিলেন আসিফ। অনেক চেষ্টা চালিয়ে সেই খবর ধামাচাপা দিয়েছিল ইউনূস সরকার। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি থেকে উৎখাতের জন্য সশস্ত্র বিপ্লবের প্রস্তুতিও নিয়ে রাখা হয়েছিল। বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র আমদানি করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ওই অস্ত্র আনতে সাহায্য করেছিল জামায়াত ইসলামী ও আমার বাংলাদেশ পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব।’
আসিফের ব্যাগ থেকে AK-47 রাইফেলের ম্যাগাজিন উদ্ধারের বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। সূত্রের খবর, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নির্দেশে রাতেই ফেসবুকে এ বিষয়ে সাফাই দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে অবতীর্ণ হন আসিফ। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে আমার লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র আছে। গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের ওপরে যেভাবে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে কয়েক দফা তাতে রাখাটাই স্বাভাবিক। যখন সরকারি প্রটোকল বা সিকিউরিটি থাকে না, তখন নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে লাইসেন্সড অস্ত্র রাখা। মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে’ অংশগ্রহণের জন্য আজ ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে ফ্লাইট ছিল। ভোরে প্যাকিং করার সময় অস্ত্রসহ একটা ম্যাগাজিন রেখে এলেও ভুলবশত আরেকটি ম্যাগাজিন ব্যাগেই রয়ে যায়। যেটা স্ক্যানে আসার পর আমার প্রটোকল অফিসারের কাছে হস্তান্তর করে আসি। বিষয়টি সম্পূর্ণ আনইন্টেনশনাল। শুধু ম্যাগাজিন দিয়ে আমি কী করব ভাই? ইন্টেনশন থাকলে অবশ্যই অস্ত্র রেখে আসতাম না। এখানে অবৈধ কিছু না থাকলেও অনেকের জন্যই এটা আলোচনার খোঁড়াক (খোরাক) বটে।’
সংবাদমাধ্যমকে চাপ প্রয়োগ করে এ বিষয়ক সংবাদ সরানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনূসের যুব উপদেষ্টা। তাঁর কথায়, ‘চাপ দিয়ে নিউজ সরানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই ঘটনার পর আমি টিমসহ টানা ১০ ঘণ্টা ফ্লাইটে ছিলাম। ট্রানজিটে নেমেও দীর্ঘক্ষণ পর অনলাইনে এসে দেখতে পাচ্ছি যে এত কিছু ঘটেছে। নাগরিক হিসেবে আপনারও যদি নিরাপত্তাঝুঁকি থাকে, যথাযথ নিয়ম ফলো করে আপনিও অস্ত্রের লাইসেন্স করতে পারেন।’