নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে তৈরি গণ-অভ্যুথানের ফলেই প্রধানমন্ত্রিত্বে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। আর তার পরেই উৎসাহিত হয়ে আসরে অবতীর্ণ হয়েছেন ভারত ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বিএনপি ও জামায়েত ইসলামীর নেতারা। তাঁদের পিছন থেকে মদত জোগাচ্ছেন রাজাকার পরিবারের সন্তান তথা দেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। সোমবার রাতেই বঙ্গভবনে এক বৈঠকে দেশের পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত পাকিস্তান ও আমেরিকাপন্থী মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত দেশবাসীর চোখে ধুলো দিতেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে শাসন ক্ষমতা নিজের হাতে রাখতে চান কট্টর মৌলবাদী হিসাবে পরিচিত সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। কিন্তু এবার তাঁকেই খুল্লামখুল্লা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। রাতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘সেনা সমর্থিত কোনও সরকার মানা হবে না। অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-আন্দোলনকারীরা ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা দেবে। ওই সরকারই গঠন করতে হবে।’
শেখ হাসিনার ইস্তফার পরেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ ও হিন্দু নিধন যজ্ঞ। সেনাবাহিনীর মদতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগ নেতা-সাংসদ-মন্ত্রীদের বাড়ি ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আগুন ধরানো হয়েছে। নির্মমভাবে খুন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে দেশ ছাড়ার জন্য। বেসরকারি সূত্রে খবর, এদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০-র বেশি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে খুন করেছে বিএনপি-জামায়েত দুষ্কৃতীরা।
দেশ জুড়ে যে অরাজকতা ও নয়া রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তা নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইলাম। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আজকের বিজয়কে আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতাকে উৎসর্গ করছি। আগামী চব্বিশ ঘণ্টার একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকারের প্রস্তাব করব। সেখানে অভ্যুত্থানকারীদের পাশাপাশি সমাজের সব অংসের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।’ একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নাগরিকের সমর্থিত বা প্রস্তাবিত সরকার ছাড়া আর কোনও সরকারকে সমর্থন করা হবে না। সেটা সেনা সমর্থিত সরকার হতে পারে কিংবা জরুরি অবস্থা দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত হতে পারে। এই ধরনের কোন সরকারকে বিপ্লবী ছাত্র জনতা গ্রহণ করবে না’।