নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজাকার বাহিনীর নব্য নেতা তথা আমেরিকার কাছে দেশের একাংশ বিক্রির ষড়যন্ত্রের হোতা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিলেন বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। বুধবার (২৮ মে) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি আকাদেমিতে (বিএমএ) ৮৮তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘দেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস হবে না।’ সেই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষেও জয়গান গেয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ‘বিমান বাহিনীর প্রধান ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলে মূলত ইউনূস ও তার দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রের অন্যতম হোতা মার্কিন চর খলিলুর রহমানকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।’
রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ক্ষমতার কুর্সিতে বসেই চট্টগ্রাম বন্দর, সেন্ট মার্টিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রির জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও পাক গণহহত্যাকারীদের দোসর মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। আর ওই ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরেই রুখে দাঁড়িয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান এবং নৌবাহিনী প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্র কোনও ক্রমে মেনে নেওয়া হবে না বলে আগেই হুঙ্কার ছেড়েছেন দুজনে। আর ওই হুঙ্কারের পরেই দেশ বেঁচে হাজার-হাজার কোটি টাকা কাটমানি খাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতেই ইস্তফার নাটক করেছেন পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার পোষ্যভৃত্য মোল্লা ইউনূস। যদিও তার ওই চড়া দরের সস্তা নাটক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে হাস্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেনাপ্রধান ও নৌবাহিনীর প্রধানের পরে এবার দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি আকাদেমিতে আয়োজিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তদারকি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- এটি বাংলাদেশের বিদেশ নীতি হলেও দেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস হবে না। বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় উন্নয়নশীল দেশ। দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ হচ্ছে সব বাহ্যিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় হুমকি থেকে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারই অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী একের পর এক বিভিন্ন দায়িত্ব ও প্রকল্প সফল করার মাধ্যমে আজ দেশের একটি বিশ্বস্ত সংস্থায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে।’
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা সশস্ত্র বাহিনী আজ জাতীয় নিরাপত্তা, আস্থা ও ঐক্যের প্রতীক। সঙ্কটময় মুহূর্তে সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশপ্রেম ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এসেছে।যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের নিষ্ঠা আমাদের জন্য চিরন্তন প্রেরণা। রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা মিশনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। তা ধরে রাখতে হবে।’