নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিতে আসরে নেমেছে পাকিস্তানি চর মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস ও তার স্যাঙাতরা। স্বাধীন বাংলাদেশে স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। এমনকি স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে তৈরি হওয়া সংবিধানও বাতিল করে নতুন সংবিধান প্রণয়ণের পরিকল্পনা নিয়েছে। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র চর তথা মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীর সদস্য আলী রিয়াজকে ওই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় গত বছরের জুলাই অভ্যুথানকে বসানোর বড় ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। আর সেই ষড়যন্ত্রের মধ্যেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আর বাহাত্তরের সংবিধানের জয়গান গাইলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। পাকিস্তানি চর ইউনূস ও তার স্যাঙাতদের স্পষ্ট বার্তা দিলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চেতনার মূল উৎস।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আওয়াজ তুলে পরোক্ষে পাকিস্তান বান্ধব ইউনূস ও তার চ্যালাচামুণ্ডাদের সতর্ক করে দিলেন সেনাপ্রধান।
রাষ্ট্রপুঞ্জ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেনারেল ওয়াকার বলেন, ‘বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর চেতনার মূল উৎস হল সংবিধানের নির্দেশনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতির অসীম আত্মত্যাগ থেকে পাওয়া শিক্ষা। এই চেতনায় বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ। বাংলাদেশ বৈশ্বিক শান্তির প্রতি তার সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে, যা প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রপুঞ্জের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক শান্তির পক্ষে অবিচলভাবে অটল থাকব।’
১৯৮৮ সাল থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহু আধিকারিক ও সদস্য যে আত্মবলিদান দিয়েছেন তার উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের ১৬৮ জন বীর সৈনিক ও পুলিশ সদস্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৮৮০ জন, নৌবাহিনীর ৩৪৩ জন, বিমান বাহিনীর ৩৯৬ জন এবং পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ জনসহ মোট ৫৫১৮ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নয়টি শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন। শান্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যাব আমরা।’