নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের রাজত্বে যেখানে হিন্দুদের বধ্যভূমি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ, সেখানে জন্মাষ্টমীর দিনেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বন্দনায় মেতে উঠলেন তিন বাহিনীর প্রধান। নির্ভয়ে এবং নিশ্চিন্তে বাংলাদেশে হিন্দুদের বসবাস করার আর্জি জানানোর পাশাপাশি বুক চিতিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনেরও পরামর্শ দিলেন। যেভাবে দেশের তিন বাহিনীর প্রধান ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের’ বার্তা আওড়েছেন, তা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। পাশাপাশি ধর্মীয় মৌলবাদীদেরও ঘুরিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
শনিবার (১৬ অগস্ট) জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান বলেন, ‘শত শত বছর ধরে এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি বজায় থাকবে। এই দেশে ধর্ম, জাতি বা গোত্রের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ থাকবে না। সব নাগরিকেরই সমান অধিকার।’ হিন্দুদের মাথা উঁচু করে ধর্মীয় রীতি পালনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন ‘আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো। সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন আছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে যাব। আপনারা নিশ্চিন্তে এই দেশে বসবাস করবেন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করবেন। আমরা একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করব, প্রয়োজন হলে সব ধরনের সহযোগিতা দেব।’ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বন্দনা করে তিনি বলেন ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ুক। এই আদর্শের ভিত্তিতে আমরা সুন্দরভাবে এ দেশে একসঙ্গে বসবাস করব।’
অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, ‘শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা শুধু অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসই যোগায় না, ন্যায়ের পথেও চলতে শেখায়। এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। সবাই মিলে কাজ করলে বিশ্বের মানচিত্রে এই বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’ সেনা ও বিমানবাহিনীর প্রধানের সুরে সুর মিলিয়ে নৌবাহিনীর প্রধান এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আসুন, পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে দেশকে আরও শক্তিশালী করি। শ্রীকৃষ্ণ যেন সমাজে ন্যায় ও আলোর সত্য প্রজ্জ্বলিত করেন।’