নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পরেই ‘আওয়ামী লীগকে ভোটে লড়তে দেওয়া হবে না’ হুঙ্কার ছাড়লেন মোল্লা ইউনূসের উপদেষ্টা তথা হিযবুত তাহরীর জঙ্গি মাহফুজ আলম। আর তার ওই হুঙ্কার নিয়েই সমাজমাধ্যমে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। একাধিক নেটা নাগরিকরা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেছেন, ‘দেশটা তোর বাপের নাকি? জামায়াতের মতো পাকিস্তান প্রেমীরা কোন মতে বাংলাদেশ পন্থী?’
আগামী ভোটের আগেই দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান তথা পোষ্যভৃত্য রাজাকার মোল্লা ইউনূসকে নির্দেশ দিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। আগামী ভোটে যাতে জামায়াত ইসলামী-ইসলামী আন্দোলন সহ হিন্দু নিধনকারী দলগুলো ক্ষমতায় আসে তার রূপরেখা চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবারই ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন আইএসআইয়ের তিন শীর্ষ আধিকারিক। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ‘ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রথমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে আওয়ামী লীগকে। তার পরে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি’কে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে উৎখাত করা হবে।’
ওই বৈঠকের পরেই শুক্রবার বাংলাদেশে আওয়ামী ও বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন পাক গুপ্তচর সংস্থার পেইড এজেন্ট তথা জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি। হুঙ্কার ছেড়ে তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে জুলাই-অগস্টে যেভাবে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিলাম, প্রয়োজনে বাংলাদেশে আরও একবার রক্তগঙ্গা বইয়ে দেব।’ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারির হুমকির ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতেই শনিবার আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের মাটিতে ভোটে লড়তে দেওয়া হবে না বলে হুঙ্কার ছেড়েছেন হিযবুত তাহরীর জঙ্গি তথা মোল্লা ইউনূসের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) চাঁদপুরের এক জনসভায় তিনি বলেছেন ‘আওয়ামী লীগকে আর নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। বিএনপি জামায়াতসহ বাংলাদেশপন্থিরাই এদেশে রাজনীতি করবে। এই দেশে আর কোনো বাকশালের সুযোগ দেওয়া হবে না।’ জঙ্গি মাহফুজের ওই হুঙ্কার নিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটা নাগরিকরা। ‘মুক্তির গান’ নামে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘অপেক্ষা কর, দেখ কী হয়?’ ‘নগর বাউল’ নামে আর এক নেটা নাগরিক লিখেছেন, ‘মাদার জাত, তুই কে? কে নির্বাচনে যাবে আর কে যাবে না, তা ঠিক করবে জনগণ। তুই গিয়া জামাতের….’।