নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদের নিশ্চিহ্ন করতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হওয়ায় শতাধিক সেনা অফিসারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন আধিকারিককে। আর এবার আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মেজর সাদিক নামে এক সেনা আধিকারিককে আটক করেছে সেনাবাহিনী। ওই সেনা আধিকারিককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘মেজর সাদিক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান জানার পরেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে শুরু করে জামায়াত ইসলামী ও এনসিপির আইটি সেল। তাতেই প্রভাবিত হয়ে কর্মঠ আধিকারিককে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন সেনাপ্রধান তথা জামায়াত ইসলামীর সদস্য (রোকন) জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান। মেজর সাদিকের হেফাজত এক অশনিসঙ্কেত।’
গত কয়েকদিন ধরেই মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগ বিরোধী একাধিক সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে অভিযোগ করা হয়, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা রুখতে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারকে পতনের লক্ষ্যে কাজ করছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। আর তাদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত মেজর সাদিক।’ সমাজমাধ্যমে এ বিষয়ে হইচই শুরু হতেই অভিযুক্ত সেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন সেনাপ্রধান।
গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালানোর সাফাই দিতে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সেনা সদর দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সাংবাদিক সম্মেলনে মেজর সাদিককে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানান মিলিটারি অপারেশনস অধিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উদ-দৌলা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘মেজর সাদিকের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যদিও বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তারপরেও আমি বলব, এরকম একটা ঘটনার কথা জানার পরে সেনাবাহিনী তাকে হেফাজতে নিয়েছে। তার বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে। তদন্তে তার দোষ প্রমাণিত হলে নিঃসন্দেহে সেনাবাহিনীর প্রচলিত নিয়মে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন আছে এর বেশি এই মূহুর্তে বলা আমার মনে হয় সমীচীন হবে না।’ গোপালগঞ্জে নিরস্ত্র জনতার উপরে গুলি চালানোর ঘটনার সাফাই দিতে গিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, ‘যারা দেশকে শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদীর হাত থেকে বাঁচিয়েছে, সেই জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বাংলাদেশের বীর সন্তান। তাদের প্রাণ বাঁচানো সেনাবাহিনীর প্রধান কর্তব্য। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের জীবন বাঁচাতে গুলি চালিয়ে কোনও অপরাধ করেননি সেনা সদস্যরা। ওই গুলি না চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যেত না।’