নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কলকাতা ও দিল্লিতে রাজনৈতিক কার্যালয় খুলে বাংলাদেশের দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ তুলেছিল মোল্লা মুহান্মদ ইউনূসের সরকার। যদিও বুধবার (২০ অগস্ট) রাতেই ওই অভিযোগ খারিজ করেছে বিদেশ মন্ত্রক। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ‘ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগ সদস্যদের বাংলাদেশ-বিরোধী কোনও কার্যকলাপ সম্পর্কে দিল্লি ‘অবগত নয়’।’
গত বছরের ৫ অগস্ট সেনা অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা। পাশাপাশি প্রাণ বাঁচাতে বৈধ ও অবৈধভাবে কলকাতা আগরতলা সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-সাংসদ ও পদাধিকারীরা। সম্প্রতি এক বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনে রাজনৈতিক কার্যালয় খুলে সাংগঠনিক কাজকর্ম চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাছাড়া গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে সভা করেন পলাতক বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।
ওই দুই বিষয় ভালভাবে মেনে নেয়নি মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকার। এদিন বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের মাটিতে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ক্রমবর্ধমানভাবে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। দলটির বহু সিনিয়র নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জড়িত।। বিচার থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কার্যকলাপ বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা। এতে শুধু দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার সম্পর্কই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়াতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ বাংলাদেশে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশি কোনও নাগরিক ভারতে বসে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হতে পারে এবং সেখানে থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিসগুলো দ্রুত বন্ধ করা হয়।’
ইউনূস সরকারের ওই ‘অপপ্রচারের’ জবাব দিতে দেরি করেনি বিদেশ মন্ত্রক। এদিন রাতেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভারতের মাটি থেকে কোনও ধরনের বাংলাদেশ বিরোধী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বা আওয়ামী লীগের সদস্যরা এই ধরনের কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন, এমন কোনও তথ্য ভারত সরকারের কাছে নেই। তাছাড়া ভারত সরকার দেশের মাটি থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেয় না। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতিটি তাই ভিত্তিহীন।’ পাশাপাশি টালবাহানা না করে বাংলাদেশে সুষ্ঠ নির্বাচনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন ‘ভারত সরকার আশা করে বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী দেশের নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’
Our response to media queries on the Press Statement issued by the Interim Government of Bangladesh⬇️
🔗 https://t.co/XDLTjDUBuH pic.twitter.com/UvT2MgwN20— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) August 20, 2025