নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: বৃহস্পতিবার বিকেলে আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে টেক অফের সময় লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI-171 কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিজে মেডিক্যাল কলেজের একটি আবাসিক পড়ুয়াদের হোস্টেলে বিধ্বস্ত হয়। ১২ জুনের বিমান দুর্ঘটনায় কেবল বিমানটিই নয়, বহু মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চূরমার হয়ে গিয়েছে। কেউ হারিয়েছেন সন্তানকে, কেউ মা বা বাবাকে, কেউ ভাই, বোন, স্ত্রীকে। কিছু মানুষের জন্য করা অপেক্ষা হয়ে গিয়েছে অনন্ত। যাদের আসার কথা ছিল, তাঁরা আর আসবেন না। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার এমন মানুষও হয়েছেন, যারা প্রথমবার বিমানে ওঠার স্বপ্নপূরণ করতে চেয়েছিলেন।
অভিশপ্ত বিমানটির কো-পাইলট ছিলেন ৩২ বছরের ক্লাইভ কুন্দার। বাড়িতে মাকে দেখে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্লাইভ। মা এয়ার ইন্ডিয়ারই প্রাক্তন কেবিন ক্রু। বিমানেই সব শেষ। ১৯ জুন বৃহস্পতিবার ক্যাপ্টেন ক্লাইভ কুন্দারের শেষকৃত্য সম্পন্নন হবে মুম্বইয়ের সেউড়ি খ্রিস্টান সমাধিক্ষেত্রে। তাঁর শেষকৃত্য দুপুর ২:৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাড়ি থেকে ক্লাইভের দেহ নিয়ে সমাধিক্ষেত্রের দিকে দুপুর ১ টায় রওনা হবেন আত্মীয় পরিজনরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তিতে লেখা আছে, “গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা জানাচ্ছি যে আমাদের প্রিয় পুত্র এবং ভাই, ক্যাপ্টেন ক্লাইভ কুন্দার ১২ জুন, ২০২৫ তারিখে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আপনার উপস্থিতি এবং প্রার্থনা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক অর্থবাহী।”
আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এই বিমানটি টেক অফের কয়েক সেকেন্ড পরেই বিধ্বস্ত হয়। এতে ১২ জন ক্রু সদস্য সহ ২৪২ জন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনায় ১ জন যাত্রী ছাড়া সকলেই মারা যান।
মূলত কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরের বাসিন্দা ছিলেন ক্লাইভ কুন্দারেরা। পরে তিনি মুম্বাইতে বসবাস করতে শুরু করেন। ক্লাইভের বাবা ক্লিফোর্ড কুন্দার মালপের বাসিন্দা। মা রেখা একসময় এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন ক্রু সদস্য ছিলেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ক্লাইভ এয়ার ইন্ডিয়ায় যোগদানের আগে ফ্লোরিডায় পাইলট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
১,১০০ ঘন্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল ক্যাপ্টেন ক্লাইভ কুন্দারের। লন্ডনগামী প্রায় ১০ ঘন্টার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে তিনি প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালকে সহায়তা করছিলেন।
শান্ত এবং আধ্যাত্মিক স্বভাবের জন্য পরিচিত ক্লাইভ যখনই বাড়িতে থাকতেন তখনই কুর্লার বাসেল মিশন গির্জায় নিয়মিত যেতেন। ভবিষ্যতে বিয়ের ভাবনা চিন্তা ছিল। পরিবারের প্রতি ছিলেন দায়িত্বশীল। কথা দিয়েছিলেন খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন বাড়িতে। ফিরলেন ঠিকই, তবে কফিনবন্দি হয়ে।