নিজস্ব প্রতিনিধি, আহমেদাবাদ: লন্ডনে যাওয়ার জন্য টেক অফ করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আহমেদাবাদেই চিকিৎসক পড়ুয়াদের আবাসিক হোস্টেল বি জে মেডিক্যালে ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বোয়িং বিমান। ঠিক সেই সময় পাশেই কয়েক মিনিটের দূরত্বে কাজ করছিলেন নির্মাণ ব্যবসায়ী ৫৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী রাজু প্যাটেল। দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আর দু’বার ভাবেননি। তিনি এবং তাঁর দল ছুটে এসে লেগে পড়েন উদ্ধারকার্যে। যদি কাউকে বাঁচানো যায়, এটাই ছিল তাৎক্ষণিক লক্ষ্য।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কালো ধোঁয়া, দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন, আহতদের মর্মান্তিক হাহাকার, একের পর এক জ্বলন্ত দগ্ধ দেহ দিয়ে যেন বি জে হোস্টেল স্বাগত জানিয়েছিল উদ্ধারকারীদের। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে রাজু বলেছেন, “প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিট আমরা খুব কমই কাছে যেতে পারছিলাম। আগুলের লেলিহান শিখা আমাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।” দমকল বাহিনী এবং অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর পর রাজুরা আহতদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার জন্য শাড়ি এবং বিছানার চাদর জোগারে তৎপর হন।
বিকেল চারটের দিকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান যখন প্রায় শেষের দিকে, তখন রাজু প্যাটেল এবং তাঁর সহযোগীরা অন্য একটি কাজ করতে শুরু করেন। তাঁরা পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে যতদূর সম্ভব জিনিসপত্র উদ্ধার করেন সেদিন। সেভাবেই তাঁরা পান ৭০ ভরি সোনার গয়না, নগদ ৮০,০০০ টাকা, বেশ কয়েকটি পাসপোর্ট এবং একটি শ্রীমদ্ভগবদগীতা। প্রতিটি জিনিস তাঁরা সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরিত করেছেন রাজু প্যাটেল ও অন্যরা।
কর্তৃপক্ষ তাঁদের সেদিন রাত ৯টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছিল। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি পরে নিশ্চিত করেন যে সংগৃহীত সামগ্রী যথাযথ নথিপত্র দেখে যাচাইয়ের পরে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।
২০০৮ সালের আহমেদাবাদ ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সময় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন রাজু। তাই দুর্ঘটনার পরের চিত্র কেমন হতে পারে তা নতুন কিছু নয়। তারপরেও তিনি বলেছেন, “ধ্বংস, অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনার ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তা আমি কখনও ভুলব না।”