নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: লন্ডনে যাওয়ার জন্য টেক অফ করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আহমেদাবাদেই চিকিৎসক পড়ুয়াদের আবাসিক হোস্টেলে ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমান। সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত হয়ে এসেছিল যেন জুন মাসের ১২ তারিখ। বিমানচালকের আসনে ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল। সবার আগে হয়তো মৃত্যু গ্রাস করেছিল তাঁকেই। বিমান দুর্ঘটনায় মৃতদের দেহ ডিএনএ শনাক্তকরণের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়া বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে মুম্বইয়ের পোয়াইতে তাঁর বাসভবনে আনা হয়েছে। সন্ধ্যায় চাকালা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা।
সুমিত সাভারওয়ালকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর ভবাসভবনের সামনে ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ডঃ নিরঞ্জন হিরানন্দানি। ৫৫ বছর বয়সী ক্যাপ্টেনের অবসর নেওয়ার কথা ছিল কয়েক মাসের মধ্যেই। ভেবেছিলেন অবসরজীবন কাটাবেন বৃদ্ধ রোগগ্রস্ত বাবাকে সময় দিয়ে। আচমকা যেন সব শেষ। পোয়াইয়ের জল বায়ু বিহারে কার্যত নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কেউ ভাবতেই পারছেন না ৩০ বছরের বিমান চালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে যার তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কীভাবে হতে পারে।
ক্যাপ্টেন সাভারওয়ালের বাবা ৮২ বছরের বৃদ্ধ আচমকা সন্তান হারিয়ে কাতর। তিনি নিজে ছিলেন সিভিল এভিয়েশন ডিরেক্টরেট জেনারেল (ডিজিসিএ) এর প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে, সুমিত বাবাকে বলেছিলেন বিমান চালনা থেকে অবসর নিয়ে এবার বাবার সঙ্গে সময় কাটাবেন। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সফর অপূর্ণই থেকে গেল।
সরকারি রেকর্ড অনুসারে, ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়ালের ৮,২০০ ঘন্টারও বেশি বিমান চালনার অভিজ্ঞতা ছিল। তবে তাঁর সহকর্মীরদের বিশ্বাস এই সংখ্যা নিছকই রেকর্ডে থাকা একটি সংখ্যা। সুমিতের বিমান চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল আরও বেশি।