নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়া দিল্লি: এয়ার ইন্ডিয়ার একের পর এক বিমানে নিরাপত্তা জনিত ত্রুটির কারণে জনমানসে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ আর বিশ্বাস করতে পারছে না বিমানপথকে। বাধ্য হয়ে ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ( DGCA) এয়ার ইন্ডিয়াকে নির্দেশে দিয়েছে তিন কর্মচারীকে বরখাস্ত করার। আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় ২৭০ জন নিহত হওয়ার ৯ দিন পর এই পদক্ষেপ করা হল।
তিন কর্মচারী হলেন, বিভাগীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট চুরা সিং, ক্রু শিডিউলিংয়ের চিফ ম্যানেজার পিঙ্কি মিত্তল এবং ক্রু শিডিউলিংয়ের পায়েল অরোরা। ২০ জুনের DGCA আদেশ অনুসারে, এই ব্যক্তিরা একাধিক ত্রুটির সাথে জড়িত ছিলেন। যার মধ্যে রয়েছে অননুমোদিত এবং অ-সম্মতিপূর্ণ ক্রু জোড়া, লাইসেন্সিং এবং ক্রু বিশ্রামের নিয়ম লঙ্ঘন এবং তদারকিতে পদ্ধতিগত ব্যর্থতা।
এয়ার ইন্ডিয়াকে এই কর্মীদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুরু করার এবং ১০ দিনের মধ্যে DGCA-এর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপর তিন কর্মীকে অকার্যকর ভূমিকায় পুনর্বহাল করা হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিমানের নিরাপত্তা ও ক্রু সম্মতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনও পদে তাদের রাখা যাবে না। ARMS থেকে CAE ফ্লাইট এবং ক্রু ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে স্থানান্তর-পরবর্তী নিরীক্ষার সময় এই সমস্যাগুলি প্রকাশ্যে আসে।
১২ জুন লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কয়েক সেকেন্ড পরেই মেঘানী নগর এলাকায় বিজে মেডিকেল কলেজের একটি হোস্টেলের ওপর ভেঙে পড়ে।
এই দুর্ঘটনায় দুই পাইলট, কেবিন ক্রু এবং আরোহী মিলিয়ে মোট ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে ২৪১ জন নিহত হন। একজন কার্যত অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। মৃতদের মধ্যে গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিও ছিলেন। হোস্টেলের উপর বিমান ভেঙে পড়ায় নিহত ও আহত হন বহু ডাক্তারি পড়ুয়া। আশপাশের ঝুপড়ি, বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধিকাংশ মৃতদেহই এমনভাবে পুড়ে গিয়েছিল যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই সরকার নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ ম্যাচিং করছে।
“এখনও পর্যন্ত, ২২০টি ডিএনএ নমুনা ম্যাচ করা হয়েছে এবং তাঁদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ২০২ জনের মৃতদেহ ইতিমধ্যেই আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যান্য নিহতদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে।”- বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং গুজরাত সরকারের মুখপাত্র রুশিকেশ প্যাটেল।
১২ জুনের বিমান দুর্ঘটনায় কেবল বিমানটিই নয়, বহু মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চূরমার হয়ে গিয়েছে। কেউ হারিয়েছেন সন্তানকে, কেউ মা বা বাবাকে, কেউ ভাই, বোন, স্ত্রীকে। কিছু মানুষের জন্য করা অপেক্ষা হয়ে গিয়েছে অনন্ত। যাদের আসার কথা ছিল, তাঁরা আর আসবেন না। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার এমন মানুষও হয়েছেন, যারা প্রথমবার বিমানে ওঠার স্বপ্নপূরণ করতে চেয়েছিলেন।