নিজস্ব প্রতিনিধি, আহমেদাবাদ: বহু অনুসন্ধানের পর আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধার হয়েছিল। সূত্রের খবর, বিমান বিপর্যয়ে সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্ল্যাক বক্সটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতে পারে। এই বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
‘ব্ল্যাক বক্স’ আসলে দুটি ডিভাইস। একটি ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বা সিভিআর, অন্যটি ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার বা এফডিআর। ১২ জুন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ভেঙে পরা এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান থেকে উদ্ধার করা ‘ব্ল্যাক বক্স’টি পরিদর্শনের জন্য ওয়াশিংটন ডিসির জাতীয় পরিবহন সুরক্ষা বোর্ডে (National Transportation Safety Board) পাঠানো যেতে পারে।
সূত্রের মতে, ‘ব্ল্যাক বক্স’টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে, সমস্ত প্রোটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য ভারতীয় আধিকারিকদের একটি দল ব্ল্যাক বক্সের সঙ্গে থাকবে।
প্রতিটি বিমানেই ব্ল্যাক বক্স থাকে। এটি কোনও সাধারণ বাক্স নয়, বরং একটি রেকর্ডিং মেশিন যা বিমানের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রেকর্ড করে। যখনই কোনও বিমান দুর্ঘটনা ঘটে, তদন্তকারী দল প্রথমে ব্ল্যাক বাক্সটি অনুসন্ধান করে। কারন দুর্ঘটনার আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা কেবল সেখান থেকেই জানা যায়।
ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বা সিভিআর পাইলট এবং সহ পাইলটের মধ্যে কথোপকথন, অ্যালার্ম এবং অন্যান্য ককপিটের শব্দ রেকর্ড করে। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার বা এফডিআর বিমানের গতি, উচ্চতা, দিক, ইঞ্জিনের অবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য রেকর্ড করে।
ব্ল্যাক বক্স এতটাই শক্তিশালী হয় যে আগুন, জল, তীব্র আঘাত বা উঁচু থেকে পড়ে গেলেও এটি ভাঙে না। এমনকী এটি ৩০ দিন জলে ডুবে থাকা অবস্থাতেও একটানা বিপিং সিগন্যাল পাঠায়, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।