নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রাবস্তী: প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যা করেছিলেন মেরঠের মুসকান রাস্তোগি। তারপর দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে জলের ড্রামে ভরে উপর দিয়ে ঢেলে দিয়েছিলেন সিমেন্ট গোলা। সেই খবর নিশ্চয় ভুলে যাননি কেউ। প্রায় তেমন ঘটনারই আবার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ। শুক্রবার পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ২৫ বছর বয়সী স্ত্রীকে প্রথমে হত্যা করে, তারপর দেহ টুকরো টুকরো করে উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তী থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ফেলে দিয়ে এসেছে স্বামী।
৩১ বছর বয়সী অভিযুক্তের নাম সইফুদ্দিন। স্ত্রী সাবিনাকে নিয়ে চলতি সপ্তাহে লখনউ যাওয়ার পথে এই কীর্তি করে সে। খুনের পর দেহ টুকরো টুকরো করে কিছু দেহাংশ একটি খালে ফেলে দেয় সইফুদ্দিন। তারপর শ্রাবস্তীর প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাকি টুকরোগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে আসে।
গত ১৪ মে সাবিনার ভাই সালাহউদ্দিন দিদিকে ফোন করেন। কিন্তু তাঁর ফোন সুইচড অফ বলে। মনে নানা চিন্তা আসায় সালাহউদ্দিন চলে যান দিদির বাড়ি। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে দম্পতি লখনউ গিয়েছেন। সন্ধ্যায় এলাকায় সইফুদ্দিনকে ঘুরে বেড়াতে দেখলেও দিদির চিহ্ন খুঁজে পাননি। তাতেই সালাহউদ্দিনের মনে দানা বাঁধে সন্দেহ।
দেরি না করে তিনি যোগাযোগ করেন পার্শ্ববর্তী থানায়। সেখানে অভিযোগও দায়ের করেন। এরপর পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। অভিযোগ, বারবার নানারকম তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে থাকে সে। ,
অবশেষে টানা দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়ে সাইফুদ্দিন। জানায় স্ত্রীকে সে খুন করেছে। সে আরও জানায় যে স্ত্রীর একটি হাত পুড়িয়ে কাছের একটি বাগানে লুকিয়ে রেখেছে। এরপর পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে পোড়া হাতটি উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।
মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যৌতুক চেয়ে বারবার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে হয়রানি করত। সেই জন্যই এই খুন বলে দাবি তাঁদের।