নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: আধুনিক হয়েও মানুষ যেন সঠিকভাবে আধুনিক হয়ে উঠতে পারেনি আজ পর্যন্ত। পণ প্রথার মতো কুপ্রথাকে যেখানে ঘৃণ্য বলে আখ্যায়িত করা হয়, সেখানে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েও পণের বলি হতে হয় বহু নারীকে। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে না পারলে বা না চাইলেই চলে অত্যাচার, মারধর। সম্প্রতি গ্রেটার নয়ডায় ২৬ বছর বয়সী নিকি ভাটি পণপ্রথার শিকার হয়েছেন। তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এর যেন শেষ নেই। ফের পণপ্রথার শিকার হতে হল এক তরুণীকে। উত্তর প্রদেশে যৌতুক-সম্পর্কিত হিংসার ঘটনা আরও একবার প্রকাশ্যে। আমরোহা জেলার পুলিশ এক পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এদের মধ্যে আবার একজন পুলিশ কনস্টেবল। ওই কনস্টেবল পণের জন্য স্ত্রীকে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তরুণী এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নারাংপুর গ্রামে। বছর বত্রিশের ওই তরুনীর নাম পারুল। তিনি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স। তাঁকে গুরুতরভাবে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করেন। পারুলের স্বামী দেবেন্দ্র উত্তর প্রদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল। সম্প্রতি রামপুর থেকে বেরেলিতে বদলি হয়ে আসে সে। ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল দেবেন্দ্র। পুলিশের মতে, যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় দেবেন্দ্র এবং তার আত্মীয়রা পারুলকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ ।
নির্যাতিতা তরুণীর ভাই ছয়জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে পারুলের স্বামী দেবেন্দ্র, শাশুড়ি এবং চার ভাসুর ও দেওর সোনু, গজেশ, জিতেন্দ্র এবং সন্তোষ)। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে পারিবারিক সহিংসতা এবং হত্যার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে ৬ অভিযুক্তই আপাতত নিখোঁজ। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। পারুলের মা অনিতা জানান যে মঙ্গলবার ভোরে তিনি প্রতিবেশী মারফত মেয়ের এই অবস্থা হওয়ার খবর দেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন মেয়ে ভয়ঙ্করভাবে পুড়ে গিয়েছেন, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। তৎক্ষণাৎ পারুলকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তরুণী। আজ থেকে প্রায় ১৩ বছর আগে দেবেন্দ্রর সঙ্গে বিয়ে হয় পারুলে। এক ছেলে এক মেয়ে- যমজ সন্তানের বাবা মা দম্পতি।
গ্রেটার নয়ডায় নিকি ভাটি হত্যার পরপরই পারুলের ঘটনাটি ঘটল। ২০১৬ সালে বিয়ে হয়ে ভাটি গিয়েছিলেন নিকি। তারপর থেকেই স্বামী বিপিন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা নিকির ওপর যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে অত্যাচার করত। নিকির পরিবার দাবি করেছে যে যৌতুক পূরণে তারা আগেই বিপিনকে একটি স্করপিও এসইউভি, একটি মোটরসাইকেল এবং গয়না দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও বিপিন ও তার পরিবারকে খুশি করা যায়নি। পরে তাঁরা নগদ ৩৬ লক্ষ টাকা এবং একটি বিলাসবহুল গাড়ি দাবি করে। নিকির দিদি কাঞ্চনের রেকর্ড করা মর্মান্তিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে নিকিকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তারপর তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।