নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ‘ধর্ষণ’ শব্দ ব্যবহার না করার জন্য সংবাদমাধ্যমের উপরে তালিবানি ফতোয়া জারি করেছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। এমনকি ধর্ষণের মতো নারকীয় ঘটনার খবর প্রকাশ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন। ওই খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশের সাধারণ মানুষ। ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ হিসাবে অবতীর্ণ হওয়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক শেখ সাজ্জাত আলীকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে রবিবার (১৬ মার্চ) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে ধিক্কার মিছিল ও মানববন্ধন। একাধিক জায়গায় শেখ সাজ্জাতের ছবিতে চটিপেটা করছেন বিক্ষোভকারীরা। শিশু ও মহিলাদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির তরফেও ঢাকার পুলিস কমিশনারের ‘তালিবানি ফতোয়া’কে অবাঞ্ছিত আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই ক্ষমতায় এসে জঙ্গিদের পাশাপাশি খুন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত কুখ্যাত অপরাধীদের জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। আর জেলমুক্তির পরেই ফের শিয়ালের দল নখদাঁত বের করে মহিলাদের ‘ইজ্জত’ কারতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। গত মাস খানেক ধরে দেশজুড়ে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছ। পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ-নরপিশাচদের হাত থেকে বাদ যাচ্ছেন না কেউই। প্রকাশ্যেই চলছ ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানির মতো লজ্জাজনক ঘটনা। ভয়ে মেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। পারতপক্ষে রাস্তায় বাড়োর মেয়েদের নামতেই দিচ্ছেন না পরিবারের অভিভাবকরা।
দেশজুড়ে যখন ধর্ষকদের রাজত্ব শুরু হয়েছে, মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে, ঠিক তখনই নরপিশাচদের ‘রক্ষাকর্তা’ হিসাবে আর্বিভূত হয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। ‘ধর্ষণ’ সব্দ না ব্যবহারের নিদান দিয়েছেন এবং ‘ধর্ষণের’ ঘটনার খবর প্রকাশ না করার জন্য সংবাদমাধ্যমকে নির্দেশও দিয়েছেন। তার ওই তালিবানি ফতোয়ার কথা জানতে পেরেই গর্জে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) তরফে রবিবার (১৬ মার্চ) এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকার পুলিশ কমিশনারের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ‘উনি বুঝিয়ে দিয়েছেন নারীদের ধর্ষণের অধিকার রয়েছে নরপশুদের। ধর্ষণের খবর প্রকাশ না করার কথা বলে ধর্ষকদের ‘পাহারাদার’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
এদিন বিকালে জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল শিশু অধিকার বিষয়ক এনজিওগুলি। ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’, ‘প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’, ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’, ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ এবং ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’। সাংবাদিক সম্মেলনে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘মাগুরার শিশুটিসহ ৬ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ২৫টি ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশে মেয়েশিশুদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা এই সহিংসতা জাতিকে হতবাক করেছে এবং সারা দেশে প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। দেশব্যাপী প্রতিবাদে একাত্মতা ঘোষণা করে আজ আমরাও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দেশে ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনা সমাজের মূল ভিত্তিকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন বলতে নিপীড়ন, যৌন নির্যাতন, ধর্ষণসহ সব ধরনের নির্যাতনই রয়েছে। তাই আইনি দিক ও অপরাধের ভয়াবহতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ধর্ষণকে ধর্ষণই বলতে হবে। ধর্ষণকে শুধু নারী নির্যাতন ও নারী নিপীড়ন বললে এর ভয়াবহতা হালকা হয়ে যায়।’