নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকা: দিদির শ্বশুরের পাশবিক ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুর দেশে পাড়ি দিয়েছে মাগুরার ছোট শিশু আছিয়া। টানা আটদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা ফুল;এর মতো নিষ্পাপ মেয়েটি গত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চলে গিয়েছে না ফেরার দেশে। ছোট্ট আছিয়ার মৃত্যুতে শোকবিহ্বল গোটা বাংলাদেশ। আর তার মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে ভয়াবহ তথ্য। উন্নত চিকিৎসার জন্য আছিয়াকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের দফতরে চিঠি পাঠিয়েছিলেন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই অনুমতি দিতে রাজি হননি প্রধান উপদেষ্টা। এমনকি আছিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসকদের খানিকটা ব্যঙ্গও কর্বেছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। কোনও ধর্ষিতাকে বিদেশে পাঠিয়ে সুস্থ করার মতো অর্থ খরচকে বিলাসিতা বলেও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।
কয়েক দিন আগে মাগুরা শহরে দিদির শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা আট বছরের শিশু আছিয়া। গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বেলা এগারোটা নাগাদ বেহুঁশ অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা হাসপাতালে নিয়ে যান দিদির শাশুড়ি। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পরীক্ষার সময়ে দেখতে পান, নির্যাতিতার গলায় দাগ রয়েছে। তাদের অনুমান, কিছু দিয়ে চেপে ধরা হয়েছিল। শরীরের বেশ কিছু জায়গায় আঁচড় আছে। তাঁর মাসিকের রাস্তায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মাগুরা হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিরীক্ষণ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় গত ৮ মার্চ শনিবার আছিয়াকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখেই গঠিত হয় মেডিকেল বোর্ড। ওই বোর্ডের চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, আছিয়াকে বাঁচানোর জন্য একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হবে। যার সুবিধা বাংলাদেশে নেই। সিঙ্গাপুরের কোনও নামী হাসপাতালে পাঠানো উচিত। হাসপাতালের শীর্ষ কর্তাদের এ বিষয়ে রিপোর্টও দেয়। পরের দিন রবিবার (৯ মার্চ) সেই রিপোর্টের কপি এবং সিঙ্গাপুরে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামান এবং প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে পাঠান সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের পরিচালক মেজর জেনারেল কাজী মুহাম্মদ রশিদ উন নবী। সৌদি আরবের একটি এয়ার অ্যাম্বুলান্স পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে কথাও বলা হয়। গত মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের তরফে ফের একবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এয়ার অ্যাম্বুলান্সে চাপিয়ে আছিয়াকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া নিয়ে যোগাযোগ করা হয়। তখনই ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ছোট আছিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে ধমক দিয়ে বলেন, ‘যে বাঁচবে না, তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে অর্থের অপচয় করতে চাইছেন কেন? ওই কথা শুনে থ মেরে যান দুই চিকিৎসক। এ বিষয়ে জানতে চাইলেও কিছু বলতে রাজি হননি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের পরিচালক মেজর জেনারেল কাজী মুহাম্মদ রশিদ উন নবী।