নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাশবিক নির্যাতনের পর ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও দিদির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হওয়া আট বছরের শিশুটির জ্ঞান ফেরেনি। বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। শিশুটিকে ইতিমধ্যেই লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। গঠিত হয়েছে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল শিশুটির উপরে’।
কয়েক দিন আগে মাগুরা শহরে দিদির শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা আট বছরের শিশুটি। গত বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বেলা এগারোটা নাগাদ বেহুঁশ অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা হাসপাতালে নিয়ে যান দিদির শাশুড়ি। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পরীক্ষার সময়ে দেখতে পান, নির্যাতিতার গলায় দাগ রয়েছে। তাদের অনুমান, কিছু দিয়ে চেপে ধরা হয়েছিল। শরীরের বেশ কিছু জায়গায় আঁচড় আছে। তাঁর মাসিকের রাস্তায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মাগুরা হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিরীক্ষণ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের শিশুদের জন থাকা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (পিকু) রেখে শিশুটির চিকিৎসা চলছে।
দিদি বাড়িতে ঘুরতে গিয়ে শিশুটির ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হতেই ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনমানসে। সমাজমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই ওই নারকীয় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে পোস্ট দিয়েছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মাগুরা শহরে মিছিল বের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই শিশুটির জামাইবাবু ও তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শিশুটির উপরে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পাশবিক নির্যাতনের কারণে শিশুটির যৌনাঙ্গে ক্ষত রয়েছে। তার গলার আঘাত গুরুতর। গত ৪৮ ঘন্টা ধরে জ্ঞান ফেরেনি। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। নির্যাতিতা শিশুটির চিকিৎসায় গাইনি ও অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাঁদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ে জানা গিয়েছে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) নিয়ে যাওয়া হয়েছে।