নিজস্ব প্রতিনিধি: সাক্ষাৎকার নিতে আসা মহিলা সাংবাদিকের কোলে বসে যাওয়ার ঘটনায়(Molestation of Women Journalist) সিপিআই(এম)(CPIM) নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য(Tanmoy Bhattacharya) কার্যত দলের মুখ পুড়িয়ে দিয়েছেন। আর জি কর কাণ্ডে ‘নাগরিক’ আর ‘জুনিয়র ডাক্তার’দের কাঁধে চেপে ৩৪ বছর ধরে বাংলা শাসন করে যাওয়া লাল পার্টির নেতারা যখন ভাবতে শুরু করে দিয়েছিলেন যে, ‘ভোটবাক্সে বিপ্লব’ হলেও হতে পারে ঠিক তখনই তাতে বালি ঢেলে দিয়েছেন তন্ময়। এই ঘটনার জেরে মুখ রক্ষার স্বার্থে প্রকাশ্যে অনেক নেতাই বলছেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক’, ‘অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’, ‘এর কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে না’, ‘নেগেটিভ বিষয় নিয়ে কেউ প্রচার করতেই পারে’, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু পাবলিক তো ভোলার নয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অবশেষে অভিযোগ আসার ১০ দিনের মাথায় তন্ময়কে ডেকে পাঠাল দলের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি(Internal Grievance Committee)। আগামী শনিবার তাঁকে সেই কমিটির সামনে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তন্ময়ও জানিয়েছেন তিনি হাজিরা দেবেন।
আরও পড়ুন, অতি লোভে তাঁতি ডোবে, নিজেই ভুলে গিয়েছিলেন শিক্ষক, খোয়ালেন ১৬ লক্ষ টাকা
আর জি কর কাণ্ডকে হাতিয়ার করে বামেরা বিশেষ করে সিপিআই(এম) কলকাতা সহ শহরতলিতে এবং জেলার শহরগুলিতেও আপ্রাণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। বামেরা ঘুরে দাঁড়ালে এ রাজ্যে যে গেরুয়ার সর্বনাশ সেটা বুঝে আতঙ্কে ছিলেন এবং এখনও আছেন পদ্মনেতারা। তবে তন্ময়কাণ্ড বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথে যতটা কাঁটা ছড়িয়ে দিয়েছে, ঠিক ততটাই অক্সিজেন যুগিয়েছে বিজেপিকেও। কেননা দুই শিবিরেরই অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে, আসন্ন ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বামেদের তৃতীয় হয়েই থাকতে হবে। দ্বিতীয় স্থান থাকবে বিজেপির দখলেই। অর্থাৎ, বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না। তন্ময় তাঁদের এবারে অন্তত ঘুরে দাঁড়াতে দিচ্ছেন না। যদিও আলিমুদ্দিনের ম্যানেজাররা এটা মানতে নারাজ যে তন্ময়কাণ্ডের কোনও প্রভাব পড়বে উপনির্বাচনে। যদিও দলের নীচুতলার নেতা থেকে কর্মীরা মানছেন, তন্ময়কাণ্ডের জেরে অনেক মানুষই দল থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবে।
আরও পড়ুন, শাহি সভায় শাহের উপস্থিতিতে ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য, FIR দায়ের মিঠুনের বিরুদ্ধে
জানা গিয়েছে, ৯ নভেম্বর অর্থাৎ আগামী শনিবার তন্ময় ভট্টাচার্যকে ডেকে পাঠিয়েছে সিপিআই(এম)’র অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি। যদিও গত ২৭ অক্টোবর তন্ময়ের ঘটনাটি সামনে আসার পরে পরেই মহম্মদ সেলিম জানিয়ে দেন, দল তাঁকে সাসপেন্ড করছে। তাঁর বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরীণ কমিটি তদন্ত করবে। যত দিন সেই তদন্ত চলবে, তত দিন তন্ময় সাসপেন্ড থাকবেন। তদন্ত শেষ হলে সেই রিপোর্ট দেখে দল পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। সেই মতোই তন্ময়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে চলেছে। জিজ্ঞাসাবাদের(Interrogation) জন্য আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তন্ময়কে। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁকে আলিমুদ্দিনে ডাকা হয়েছে। সেই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন তন্ময় নিজেও। জানিয়েছেন, ‘পার্টির তদন্তের মুখোমুখি হতে আমার কোনও আপত্তি নেই। শনিবার আলিমুদ্দিনে যাব।’ গত রাজ্য সম্মেলনের পরেই দলে মহিলাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি তৈরি করেছিল সিপিআই(এম)। সর্বভারতীয় স্তরেও এমন কমিটি রয়েছে তাঁদের। বাংলায় এই কমিটির মাথায় রয়েছেন বর্ধমানের মহিলা নেত্রী অঞ্জু কর। তাঁর নেতৃত্বেই তন্ময়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।