নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হওয়ার মূল্য চোকাতে হল জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীকে। শেখ হাসিনা উৎখাত আন্দোলনে অংশ না নেওয়ায় জনপ্রিয় অভিনেতাকে ব্ল্যাক আউটের নির্দেশ দিয়েছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও প্রদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত কোনও নাটক বা সিনেমা দেখানো যাবে না। শুধু তাই নয়, টিভি ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থাগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও নাটক-সিরিয়াল, ওয়েব সিরিজ ও ছবিতে যেন অভিনয়ের জন্য চঞ্চল চৌধুরীকে না নেওযা হয়। মোল্লা ইউনূসের সরকারের ওই নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন পরিচালক ও প্রযোজকরা। তবে খুশি বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামীর অনুসারী হিসাবে পরিচিত শিল্পীরা। ইতিমধ্যেই তারা দাবি তুলেছেন, চঞ্চল চৌধুরীকে নিষিদ্ধ করলেই হবে না। দেশ থেকে তাড়াতে হবে। ইউনূস সরকারের এমন নির্দেশ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি চঞ্চল চৌধুরী।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পরেই বাংলাদেশ সংস্কৃতি অঙ্গন আরাআড়িভাবে বিভাজিত হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী-চলচ্চিত্র পরিচালকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা চালাতে শুরু করে ইসলামি জিহাদিদের সমর্থনকারী মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী-আজমেরী হক বাঁধন-তাসনিয়া ফারিন-তানজিন নিশা-আসিফ কবিররা। মূলত হিন্দু শিল্পী ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদেরই নিশানা করেন তারা। হাসিনা ঘনিষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হয় মিথ্যা মামলা। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালান। ‘জলের গান’-এর প্রাণপুরুষ রাহুল আনন্দের বাড়ি ও পুরো বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আর ওই ন্যক্করজনক ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হিসাবে পরিচিত আজমেরী হক বাঁধন।
সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীকে লক্ষ্য করে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। সেই সঙ্গে অশালীন ভাষায় আক্রমণও করা হয়। দেশদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হয় দেশের সবচেয়ে শক্তিমান অভিনেতাকে। হিন্দু হওয়ায় কুৎসিত ভাষায় আক্রমণও করা হয় ‘পদাতিক’ অভিনেতাকে। আর ওই আক্রমণের পরেই কার্যত ফেসবুকে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন চঞ্চল। সূত্রের খবর, শেখ হাসিনা ঘনিষ্ঠ অভিনেতাকে যাতে নিষিদ্ধ করা হয় তার জন্য তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কাছে দাবি জানান রায়হান রাফী, মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, আজমেরি হক বাঁধন, জিতু আহসান, আসিফ কবির, খিজার হায়াত খানরা। এর পরেই বাংলাদেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলের শীর্ষ কর্তাদের ডেকে পাঠান তথ্য উপদেষ্টা। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চঞ্চল চৌধুরীর অভিনীত কোনও নাটক যেন না দেখানো হয়। এমনকি তিনি যে সব ছবিতে অভিনয করেছেন তাও যেন প্রদর্শিত না হয়। টিভি চ্যানেলগুলির জন্য যে সব পরিচালক নাটক তৈরি করেন তাদেরকেও চঞ্চল চৌধুরীকে অভিনয়ের জন্য না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের ব্ল্যাকআউট করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিখ্যাত নাট্য পরিচালক ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোব প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন শিল্পীকে তাঁর শিল্পীসত্তার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিচার করা মধ্যযুগীয় বর্বরতা ছাড়া আর কিছু নয়।এতে দেশের সংস্কৃতি জগত এগোবার পরিবর্তে পিছিয়েই পড়বে।’ যদিও ইসলামি জিহাদিদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক তথা পরিচালক মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার সহযোগীদের বাংলাদেশের মাটিতে ঠাঁই হওয়া উচিত নয়।’ শেখ হাসিনা জমানায় সরকার বিরোধী অনেক গায়ক-পরিচালককে ‘ব্ল্যাকআউট’ করা হয়েছিল বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।