নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী ঢাকাই শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ‘নিকেশ’ অভিযানে নামল পাক গণহত্যাকারীদের দোসর মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। শেখ হাসিনা জমানার অবসানের ৯ মাস বাদে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে (পড়ুন জঙ্গি) খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, ফেরদৌস, রিয়াজ, কিংবদন্তি নাট্য পরিচালক মামনুর রশীদ-সহ ১৪ অিনেতার বিরুদ্ধে। শুশধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলায় মামলা দায়ের করা হয়েছে সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, শিক্ষকসহ ২০১ জনের বিরুদ্ধে। আর ওই ঘটনায় ফের একবার শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এর আগেই দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নাথয়িকা অপু বিশ্বাস –নুসরাত ফারিয়াদের বিরুদ্ধে।
গত বছরের ৪ অগস্ট পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশে সংগঠিত শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের সময়ে নাশকতা চালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয় ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদ। রাজধানীর পরীবাগের কাছে পুলিশের কিয়স্কে আগুন লাগানোর সময়ে ওই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন বাদে ওই ঘটনা নিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে মামলা দায়ের করেন জঙ্গি সংগঠন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা এম এ হাশেম রাজু। জনপ্রিয় অভিনেতা মামুনুর রশীদ, চঞ্চল চৌধুরী, রিয়াজ, ফেরদৌস, আশনা হাবীব ভাবনা, সাজু খাদেম, জায়েদ খান, রোকেয়া প্রাচী, মেহের আফরোজ শাওন, অরুনা বিশ্বাস, জ্যোতিকা জ্যোতি, শামীমা তুষ্টি, শমী কায়সার ও সোহানা সাবার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ জানানো হয়।
ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে কী করা উচিত তা জানতে চেয়ে তদারকি সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পরামর্শ চান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম)। আইন উপদেষ্টা মালা গ্রহণ করে পুলিশকে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিতে বলেন। আইন উপদেষ্টার সেই পরামর্শ শিরোধার্য করে গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে শাহবাগ থানার ওসিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিচারক।
মামলায় চঞ্চল চৌধুরদের পাশাপাশি আসামি করা রয়েছে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাংবাদিক আবেদ খান, ‘সমকাল’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ –এর প্রাক্তন সম্পাদক নঈম নিজাম, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টিভির মোজাম্মেল হক, সাংবাদিক মুন্নি সাহা, জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাংবাদিক মিথিলা ফারজানা, মাসুদা ভাট্টি ও ফারজানা রুপাকে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য আক্তারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য হারুন অর রশীদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববদ্যিালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য আবদুল মান্নান, নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য এম ওয়াহিদুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে।